ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেয়ার শূন্য পাঁচ ব্যাংকের অডিটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 29

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা কোন প্রেক্ষাপটে শেয়ার কিনেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এ পাঁচ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন যাঁরা অডিট করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি জটিল এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। শেয়ার কেনা হয়েছে কোন প্রেক্ষাপটে, বাজারদরে কিনেছে কি না এবং বিনিয়োগের ঝুঁকি তারা কীভাবে নিয়েছে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার। যাঁদের আমানত আছে, তাঁরা তাঁদের টাকা পাবেন। তবে শেয়ারহোল্ডাররা স্বেচ্ছায় বিনিয়োগ করেছেন এবং সে সিদ্ধান্তের পেছনের প্রেক্ষাপট যাচাই করা প্রয়োজন।

শেয়ারহোল্ডাররা আর্থিক প্রতিবেদন দেখে শেয়ার কিনেছেন—এমন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, সেটিই এখন পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোন পরিস্থিতিতে শেয়ার কেনা হয়েছে, তা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

৫ আগস্টের আগে এসব ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন যাঁরা অডিট করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে।

ভেনেজুয়েলা ও ইরানে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের দামে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি—দুই খাতকে সামনে রেখে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে অফশোর ড্রিলিং, কয়লার ব্যবহার এবং মধ্যপাড়া কয়লা খনির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

টিআইবির প্রতিবেদনে ব্যুরোক্রেসি বেশি শক্তিশালী—এমন মন্তব্যের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষতা, সমন্বয় ও নিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে।

ইরান ও নেপাল বাংলাদেশ হতে চায় না—এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন প্রেক্ষাপটে এ কথা বলা হয়েছে তা জানা নেই। বরং বাংলাদেশ এসডিজি উত্তরণসহ নানা সূচকে ভালো করছে বলে আন্তর্জাতিক মহল নজর রাখছে।

উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুদ্রাস্ফীতি শুধু চাহিদা-জোগানের বিষয় নয়। বাজারের গতিশীলতা, জনগণের সহযোগিতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুশাসন। শুধু নীতিসুদ বাড়ানো বা প্রশাসনিক পদক্ষেপে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শেয়ার শূন্য পাঁচ ব্যাংকের অডিটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: অর্থ উপদেষ্টা

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা কোন প্রেক্ষাপটে শেয়ার কিনেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এ পাঁচ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন যাঁরা অডিট করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি জটিল এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। শেয়ার কেনা হয়েছে কোন প্রেক্ষাপটে, বাজারদরে কিনেছে কি না এবং বিনিয়োগের ঝুঁকি তারা কীভাবে নিয়েছে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার। যাঁদের আমানত আছে, তাঁরা তাঁদের টাকা পাবেন। তবে শেয়ারহোল্ডাররা স্বেচ্ছায় বিনিয়োগ করেছেন এবং সে সিদ্ধান্তের পেছনের প্রেক্ষাপট যাচাই করা প্রয়োজন।

শেয়ারহোল্ডাররা আর্থিক প্রতিবেদন দেখে শেয়ার কিনেছেন—এমন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, সেটিই এখন পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোন পরিস্থিতিতে শেয়ার কেনা হয়েছে, তা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

৫ আগস্টের আগে এসব ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন যাঁরা অডিট করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে।

ভেনেজুয়েলা ও ইরানে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের দামে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি—দুই খাতকে সামনে রেখে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে অফশোর ড্রিলিং, কয়লার ব্যবহার এবং মধ্যপাড়া কয়লা খনির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

টিআইবির প্রতিবেদনে ব্যুরোক্রেসি বেশি শক্তিশালী—এমন মন্তব্যের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষতা, সমন্বয় ও নিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে।

ইরান ও নেপাল বাংলাদেশ হতে চায় না—এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন প্রেক্ষাপটে এ কথা বলা হয়েছে তা জানা নেই। বরং বাংলাদেশ এসডিজি উত্তরণসহ নানা সূচকে ভালো করছে বলে আন্তর্জাতিক মহল নজর রাখছে।

উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুদ্রাস্ফীতি শুধু চাহিদা-জোগানের বিষয় নয়। বাজারের গতিশীলতা, জনগণের সহযোগিতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুশাসন। শুধু নীতিসুদ বাড়ানো বা প্রশাসনিক পদক্ষেপে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।