শেখ হাসিনা-কামাল মামলায় রাজসাক্ষী চৌধুরীর জেরা শুরু
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 68
গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছেন রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১:৩৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলের সামনে তার জেরা শুরু হয়।
শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন চৌধুরী মামুনকে জেরা করছেন। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি শেষে তাকে আংশিকভাবে জেরা করা হয়েছিল। ৩ সেপ্টেম্বর স্টেট ডিফেন্সের আবেদনের পর বাকি জেরার জন্য ৪ সেপ্টেম্বরের দিন ধার্য করা হয়।
২ সেপ্টেম্বরের জবানবন্দিতে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন উল্লেখ করেছিলেন, ওই সময় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের ফোনের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে পুলিশ জুলাই- আগস্ট আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার শুরু করে। তিনি জানান, সে সময় তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ছিলেন এবং অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ার্দারও উপস্থিত ছিলেন। নির্দেশনার বিষয়টি জানিয়ে প্রলয় কুমার সারা দেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেন। এরপর থেকেই আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার শুরু হয়।
চৌধুরী আরও উল্লেখ করেছেন, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অনেকে প্রধানমন্ত্রীকে এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য প্ররোচিত করেছিলেন। জবানবন্দিতে তিনি অশ্রুসজল চোখে গণহত্যার শিকারদের পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চান।
গত ১০ জুলাই চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ট্রাইব্যুনালে নিজের দায় স্বীকার করে স্বপ্রণোদিতভাবে রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মামলায় ৩ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৩৬ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। সাক্ষীদের বর্ণনায় গত বছরের জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে। শহীদ পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযুক্তদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
































