ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার রায়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 88

প্রধান উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে—ক্ষমতার অবস্থান যাই হোক, আইনের সামনে সবাই সমান।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও নির্যাতিত মানুষদের জন্য এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি এটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ হলেও অপর্যাপ্ত’ বিচার হিসেবে উল্লেখ করেন। উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এই তথ্য জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই রায় শুধু আইনি সিদ্ধান্ত নয়—এটি সেই সব পরিবারের প্রতি সম্মান, যারা হারানো প্রিয়জনের বেদনা আজও বয়ে চলেছেন। বহু বছরের দমন-পীড়নে বিপর্যস্ত দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো এখন পুনর্গঠনের পথে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগে যে নিপীড়ন ও হত্যার কথা উঠে এসেছে—বিশেষত যুবক ও শিশুদের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ—তা রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ককে নষ্ট করেছে। নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল—মাসব্যাপী সাক্ষ্যগ্রহণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। আদালতের রায় সেই ভোগান্তিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

সরকারি হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারায়। তারা কেবল সংখ্যা নয়—তারা ছিল শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাধারণ নাগরিক—উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, এই রায় তাদের প্রতি ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং দেখিয়েছে যে অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থাকতে পারে না।

ড. ইউনূস আরও বলেন, বাংলাদেশ আবারও বৈশ্বিক ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ ও জবাবদিহির নীতিতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে। পরিবর্তনের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন—তাদের ত্যাগই এ পথচলার প্রেরণা।

তবে তাঁর মতে, শুধু আইনি প্রক্রিয়া যথেষ্ট নয়; রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যকার আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণ কেন প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য জীবন বাজি রাখে—তা অনুধাবন করতে হবে এবং সেই আস্থার যোগ্য ব্যবস্থা তৈরিই আগামী দিনের কাজ।

বিবৃতির শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সাহস ও দায়িত্ববোধ নিয়ে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করবে। আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি অঙ্গীকার বজায় থাকলে ন্যায়বিচার কেবল টিকে থাকবে না, আরও সুসংহত হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শেখ হাসিনার রায়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া

সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে—ক্ষমতার অবস্থান যাই হোক, আইনের সামনে সবাই সমান।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও নির্যাতিত মানুষদের জন্য এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি এটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ হলেও অপর্যাপ্ত’ বিচার হিসেবে উল্লেখ করেন। উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এই তথ্য জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই রায় শুধু আইনি সিদ্ধান্ত নয়—এটি সেই সব পরিবারের প্রতি সম্মান, যারা হারানো প্রিয়জনের বেদনা আজও বয়ে চলেছেন। বহু বছরের দমন-পীড়নে বিপর্যস্ত দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো এখন পুনর্গঠনের পথে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগে যে নিপীড়ন ও হত্যার কথা উঠে এসেছে—বিশেষত যুবক ও শিশুদের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ—তা রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ককে নষ্ট করেছে। নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল—মাসব্যাপী সাক্ষ্যগ্রহণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। আদালতের রায় সেই ভোগান্তিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

সরকারি হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারায়। তারা কেবল সংখ্যা নয়—তারা ছিল শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাধারণ নাগরিক—উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, এই রায় তাদের প্রতি ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং দেখিয়েছে যে অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থাকতে পারে না।

ড. ইউনূস আরও বলেন, বাংলাদেশ আবারও বৈশ্বিক ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ ও জবাবদিহির নীতিতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে। পরিবর্তনের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন—তাদের ত্যাগই এ পথচলার প্রেরণা।

তবে তাঁর মতে, শুধু আইনি প্রক্রিয়া যথেষ্ট নয়; রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যকার আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণ কেন প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য জীবন বাজি রাখে—তা অনুধাবন করতে হবে এবং সেই আস্থার যোগ্য ব্যবস্থা তৈরিই আগামী দিনের কাজ।

বিবৃতির শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সাহস ও দায়িত্ববোধ নিয়ে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করবে। আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি অঙ্গীকার বজায় থাকলে ন্যায়বিচার কেবল টিকে থাকবে না, আরও সুসংহত হবে।