শেখ হাসিনার মৃত্যুর গুজব: অনুসন্ধানে যা জানা গেল
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
- / 267
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ছবি ঘিরে এই গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়— শেখ হাসিনা অসুস্থ বা মারা গেছেন। ছবিটি ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছবিটি শেখ হাসিনার নয়। ভারতের এক নারীর ছবি সম্পাদনা করে সেটিকে বিকৃতভাবে শেখ হাসিনার বলে প্রচার করা হয়েছে।
রিউমার স্ক্যানারের যাচাইয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ছবিটির উৎস ভিন্ন এবং এটি প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে বিকৃত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, ছবিটি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভুয়া ছবি বা খবর সাধারণত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা অনলাইনে ক্লিক বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ছড়ানো হয়। তারা একে ‘ডিজিটাল গুজব’ বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং রাজনৈতিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিথ্যা তথ্য প্রচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। গুজব বা ভুয়া তথ্য ছড়ানো রোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের অনুরোধ— কোনো ছবি বা তথ্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার আগে তার উৎস যাচাই করতে হবে এবং শুধুমাত্র বিশ্বস্ত গণমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে।
এর আগেও একই ধরনের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার খবর শুনে শেখ হাসিনা ভারতের হাসপাতালে মারা গেছেন। পরে ফ্যাক্টচেক সংস্থা ফ্যাক্টওয়াচ ছবিটির সত্যতা যাচাই করে জানায়, এটি শেখ হাসিনার নয়, বরং ভারতের এক নারীর ছবি বিকৃত করা হয়েছে।
তাদের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ছবির নারীটি হলেন রাজ পাসরিচা, যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনা কর্মকর্তার বিধবা। ২০২৫ সালের ৪ মার্চ তিনি বেঙ্গালুরুগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এক ফ্লাইটে যাত্রা করেন। তার পরিবার আগেই হুইলচেয়ার বুক করলেও বিমানবন্দরে সেটি সরবরাহ করা হয়নি। ফলে তাকে হেঁটে যেতে হয় এবং পরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
এই ঘটনাটি ২০২৫ সালের ৮ মার্চ ভারতের গণমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট-এ প্রকাশিত হয়। পরে ছবিটি বিকৃত করে শেখ হাসিনার মুখ বসানো হয় এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়।
এ বিষয়ে এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইকোনমিক টাইমস ও এবি পি লাইভসহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয় ২০২৫ সালের ১২ মে। অর্থাৎ, রাজ পাসরিচার ঘটনাটি সেই সময়ের দুই মাস আগেই ঘটে।
সব তথ্য যাচাই করে ফ্যাক্টওয়াচ নিশ্চিত করেছে যে, শেখ হাসিনার মৃত্যুর দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভাইরাল হওয়া ছবিটি বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
































