ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা প্রসিকিউশনের

শেখ হাসিনার ভাগ্য নির্ধারণ সোমবার

নিজস্ব প্রতিবদেক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / 132

শেখ হাসিনা

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণা হবে কাল। জুলাই–আগস্টের দমন-পীড়নে প্রাণ হারানো মানুষের স্বজন, আহত আর গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া সাধারণ মানুষ- সবার দৃষ্টি এখন এই রায়ের দিকেই। দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ আর আইনি লড়াই শেষে এখন অপেক্ষা শুধু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি হলো তিনি গণভবনে বসে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও নাতিপুতি বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামান খান কামাল, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ তৎকালীন সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্ররোচনা ও সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে হামলা চালায়। এর মাধ্যমে হত্যা, হত্যার চেষ্টা, নির্যাতন করা হয়। এসব ঘটনায় আসামিদের প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা, অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায় এসেছে শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের ওপর।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ, তিনি আন্দোলনকারীদের দমনে হেলিকপ্টার থেকে গুলি, ড্রোন দিয়ে আন্দোলনকারীদের খুঁজে বের করে এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন। আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন এই নির্দেশ বাস্তবায়নে তাদের অধীনস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন। এর মাধ্যমে আসামিরা অপরাধ সংঘটনের নির্দেশ প্রদান, সহায়তা, সম্পৃক্ততা, এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডে তাদের নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন হয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ছয়জন ছাত্র নিহত হন। এ ঘটনায়ও শেখ হাসিনাসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পঞ্চম ও শেষ অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের লাশ পুড়িয়ে দেয়া এবং একইসঙ্গে গুরুতর আহত একজনকে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় তিন আসামি কর্তৃক হত্যার নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী তামিম বলেন, ‘এটা রাষ্ট্রের কূটনৈতিক দায়িত্ব। আমাদের দায়িত্ব হলো আইনের মধ্যে থেকে বিচার সম্পন্ন করা। আমরা তা সম্পন্ন করেছি। শাস্তি প্রয়োগ করা নিয়ে এ আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে সরকার শাস্তি এক্সিকিউট করবে। সরকার কিভাবে করবে তা সরকারের ওপর।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম দাবি করছেন, এই বিচার এতটা স্বচ্ছ হয়েছে যে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এটি প্রশ্নাতীতভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। আদালত এজলাস থেকে বিচারকাজ সরাসরি দেখানোসহ অনেক ব্যতিক্রম ব্যাপার দেখা গেছে জুলাই আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায়। কিন্তু প্রতিবেশি ভারত যেভাবে, অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা হলে, কী প্রতিক্রিয়া আসবে, এবং সরকার সেটিকে কীভাবে সামাল দেবে, সেদিকেও নজর রাখছেন অনেকে।

পাঁচ অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে এমনটি দাবি করে প্রসিকিউশন বলছে, যে ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, যে যুক্তিতর্ক, ভিডিও-অডিও তারা দিয়েছেন, তাতে শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজাই প্রাপ্য। তবে সবকিছু বিবেচনায় এখন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারকে হাতে। সেখানেই ঠিক হবে জুলাই হত্যার নির্দেশদাতা শেখ হাসিনাকে তারা খালাস দেবেন, নাকি সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেবেন। তবে তিন বিচারকের হাতে অপশন আছে আমৃত্যু কারাদণ্ড বা নির্দিষ্ট মেয়াদে জেল দেয়ারও।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা প্রসিকিউশনের

শেখ হাসিনার ভাগ্য নির্ধারণ সোমবার

সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণা হবে কাল। জুলাই–আগস্টের দমন-পীড়নে প্রাণ হারানো মানুষের স্বজন, আহত আর গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া সাধারণ মানুষ- সবার দৃষ্টি এখন এই রায়ের দিকেই। দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ আর আইনি লড়াই শেষে এখন অপেক্ষা শুধু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি হলো তিনি গণভবনে বসে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও নাতিপুতি বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামান খান কামাল, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ তৎকালীন সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্ররোচনা ও সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে হামলা চালায়। এর মাধ্যমে হত্যা, হত্যার চেষ্টা, নির্যাতন করা হয়। এসব ঘটনায় আসামিদের প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা, অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায় এসেছে শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের ওপর।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ, তিনি আন্দোলনকারীদের দমনে হেলিকপ্টার থেকে গুলি, ড্রোন দিয়ে আন্দোলনকারীদের খুঁজে বের করে এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন। আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন এই নির্দেশ বাস্তবায়নে তাদের অধীনস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন। এর মাধ্যমে আসামিরা অপরাধ সংঘটনের নির্দেশ প্রদান, সহায়তা, সম্পৃক্ততা, এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডে তাদের নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন হয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ছয়জন ছাত্র নিহত হন। এ ঘটনায়ও শেখ হাসিনাসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পঞ্চম ও শেষ অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের লাশ পুড়িয়ে দেয়া এবং একইসঙ্গে গুরুতর আহত একজনকে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় তিন আসামি কর্তৃক হত্যার নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী তামিম বলেন, ‘এটা রাষ্ট্রের কূটনৈতিক দায়িত্ব। আমাদের দায়িত্ব হলো আইনের মধ্যে থেকে বিচার সম্পন্ন করা। আমরা তা সম্পন্ন করেছি। শাস্তি প্রয়োগ করা নিয়ে এ আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে সরকার শাস্তি এক্সিকিউট করবে। সরকার কিভাবে করবে তা সরকারের ওপর।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম দাবি করছেন, এই বিচার এতটা স্বচ্ছ হয়েছে যে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এটি প্রশ্নাতীতভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। আদালত এজলাস থেকে বিচারকাজ সরাসরি দেখানোসহ অনেক ব্যতিক্রম ব্যাপার দেখা গেছে জুলাই আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায়। কিন্তু প্রতিবেশি ভারত যেভাবে, অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা হলে, কী প্রতিক্রিয়া আসবে, এবং সরকার সেটিকে কীভাবে সামাল দেবে, সেদিকেও নজর রাখছেন অনেকে।

পাঁচ অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে এমনটি দাবি করে প্রসিকিউশন বলছে, যে ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, যে যুক্তিতর্ক, ভিডিও-অডিও তারা দিয়েছেন, তাতে শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজাই প্রাপ্য। তবে সবকিছু বিবেচনায় এখন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারকে হাতে। সেখানেই ঠিক হবে জুলাই হত্যার নির্দেশদাতা শেখ হাসিনাকে তারা খালাস দেবেন, নাকি সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেবেন। তবে তিন বিচারকের হাতে অপশন আছে আমৃত্যু কারাদণ্ড বা নির্দিষ্ট মেয়াদে জেল দেয়ারও।