দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৫ অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আদালত
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
- / 288
জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একইসঙ্গে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অপর আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট (কারাগারে থাকা অবস্থায় দেখানো গ্রেপ্তার) দেখানো হয়েছে।
রোববার (১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
এদিন সকালে, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। বিচারকার্য বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-তে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর ১৪ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়। সেই অভিযোগের তদন্ত শুরু হয় ১৪ অক্টোবর। ছয় মাস ২৮ দিন তদন্ত শেষে গত ১২ মে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও সহিংস দমনপীড়ন চালায়। এতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারান। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
পরবর্তীতে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার কাজ শুরু করে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ের হওয়া প্রথম মামলা ছিল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বিবিধ মামলা (মিস কেস)। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।
পরে মামলায় আরও দুইজন—তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকেও আসামি করা হয়।
































