শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 89
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আজ (সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর) সাক্ষ্যগ্রহণের ২০তম দিন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আজকের শুরুতে ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। এরপর নতুন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হবে। প্রসিকিউশন আরও তিনজন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপনের আবেদন করেছে।
গতকাল ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে জুনায়েদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে। পরে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী তাকে জেরা করেন, তবে তা অসম্পূর্ণ থাকায় আজ অব্যাহত থাকবে। জুনায়েদ এই মামলার ৪৮ নম্বর সাক্ষী। তিনি ২০১৩ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। একই দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের জেরাও সম্পন্ন হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও তারেক আবদুল্লাহ। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর নাহিদ ইসলাম দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেন এবং তাকে জেরা করা হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকেও দ্বিতীয় দফায় জেরা করা হয়।
২ সেপ্টেম্বর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হন। তিনি স্বীকার করেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশেই জুলাই-আগস্টে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। এ সময় তিনি ক্ষমা চেয়ে আদালতের সামনে নতুন তথ্য উপস্থাপন করেন।
সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গত বছরের আন্দোলনে দেশজুড়ে সহিংসতা, হত্যাযজ্ঞ ও নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগ মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।
মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে প্রমাণাদি, তথ্যসূত্র, জব্দতালিকা ও শহীদদের বিস্তারিত নাম-তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৮১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় তদন্ত সংস্থা।
































