ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার বক্তব্যে সরকারের সতর্কতা:যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 135

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে দেশের গণমাধ্যমকে সতর্ক করে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যেখানে এই বক্তব্যের প্রচারকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি বক্তব্য প্রচার করা হলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

শুক্রবার সরকারের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিধিনিষেধ অমান্যকারী যেকোনো সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের আইনের অধীনে আইনি জবাবদিহিতার আওতায় পড়বে।”

সরকারের এমন অবস্থানকে স্ববিরোধী বলছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের অনেকেই। এমনকি এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।

তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের সামিল। একদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনার ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ প্রচারে আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আদালত। কিন্তু নতুন বিবৃতির মাধ্যমে সরকারও সরাসরি সেই পদক্ষেপের অংশ হয়ে গেলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এ পদক্ষেপের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার মিলও দেখছেন অনেকে। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার সংক্রান্ত আগের সব নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্ট প্রত্যাহার করেছে।

আদালতের আগের নির্দেশনা

প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই সঙ্গে আগের দেওয়া সব বক্তব্যও দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল বিটিআরসিকে।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার হওয়ায় শুক্রবার নতুন করে বিবৃতি দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এতে বলা হয়, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে গত বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনার একটি ভাষণ প্রচার করেছে কয়েকটি গণমাধ্যম। যা ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশের আইন অনুসারে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুসারে যে কেউ তাদের নেতাদের কার্যকলাপ বা বক্তব্য প্রচার করলে তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‘এটা স্ববিরোধীতা’

২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আদালত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তবে গত বছর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ার পর হাইকোর্ট সেই নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আদালতের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও সরকারের বিবৃতি নতুন করে আওয়ামী লীগের অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি ঘটালো।

বিএনপি মিলে-মিশে দেশ পরিচালনা করবে: তারেক রহমান
বিএনপি মিলে-মিশে দেশ পরিচালনা করবে: তারেক রহমান

মানবজমিন সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এটা স্ববিরোধীতা। একদিকে আমরা বলছি গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছি।”

তার মতে, গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে দিয়ে অতীতে কোনো ফল আসেনি। বরং সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে এসব বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং ভবিষ্যতেও পৌঁছাবে।

তিনি আরও বলেন, “এর আগেও তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে টানা ১০ বছর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেটাও ছিল মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। তখন গণমাধ্যম ছিল নিয়ন্ত্রিত। এখনো একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।”

বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন; গণমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও ইউটিউব, ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য ছড়িয়ে পড়া রোধ করবে কীভাবে সরকার?

সূত্র: বিবিসি বাংলা

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শেখ হাসিনার বক্তব্যে সরকারের সতর্কতা:যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন

সর্বশেষ আপডেট ১০:১৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে দেশের গণমাধ্যমকে সতর্ক করে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যেখানে এই বক্তব্যের প্রচারকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি বক্তব্য প্রচার করা হলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

শুক্রবার সরকারের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিধিনিষেধ অমান্যকারী যেকোনো সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের আইনের অধীনে আইনি জবাবদিহিতার আওতায় পড়বে।”

সরকারের এমন অবস্থানকে স্ববিরোধী বলছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের অনেকেই। এমনকি এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।

তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের সামিল। একদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনার ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ প্রচারে আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আদালত। কিন্তু নতুন বিবৃতির মাধ্যমে সরকারও সরাসরি সেই পদক্ষেপের অংশ হয়ে গেলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এ পদক্ষেপের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার মিলও দেখছেন অনেকে। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার সংক্রান্ত আগের সব নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্ট প্রত্যাহার করেছে।

আদালতের আগের নির্দেশনা

প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই সঙ্গে আগের দেওয়া সব বক্তব্যও দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল বিটিআরসিকে।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার হওয়ায় শুক্রবার নতুন করে বিবৃতি দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এতে বলা হয়, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে গত বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনার একটি ভাষণ প্রচার করেছে কয়েকটি গণমাধ্যম। যা ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশের আইন অনুসারে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুসারে যে কেউ তাদের নেতাদের কার্যকলাপ বা বক্তব্য প্রচার করলে তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‘এটা স্ববিরোধীতা’

২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আদালত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তবে গত বছর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ার পর হাইকোর্ট সেই নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আদালতের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও সরকারের বিবৃতি নতুন করে আওয়ামী লীগের অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি ঘটালো।

বিএনপি মিলে-মিশে দেশ পরিচালনা করবে: তারেক রহমান
বিএনপি মিলে-মিশে দেশ পরিচালনা করবে: তারেক রহমান

মানবজমিন সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এটা স্ববিরোধীতা। একদিকে আমরা বলছি গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছি।”

তার মতে, গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে দিয়ে অতীতে কোনো ফল আসেনি। বরং সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে এসব বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং ভবিষ্যতেও পৌঁছাবে।

তিনি আরও বলেন, “এর আগেও তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে টানা ১০ বছর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেটাও ছিল মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। তখন গণমাধ্যম ছিল নিয়ন্ত্রিত। এখনো একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।”

বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন; গণমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও ইউটিউব, ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য ছড়িয়ে পড়া রোধ করবে কীভাবে সরকার?

সূত্র: বিবিসি বাংলা