ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে

শেখ হাসিনার কল রেকর্ডের ম্যাটারিয়াল ফ্যাক্টস

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:২৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • / 211

শেখ হাসিনা ও কোটা আন্দোলন

জুলাই হত্যাকাণ্ডের গোপন কল রেকর্ড ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ফোন। ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলন দমন কাণ্ডে দেশত্যাগী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার বিষয়টি এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং দলের বিশ্বস্ত নেতাকর্মীদের আন্দোলন দমনে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা তানভীর হাসান সৈকতের ব্যবহৃত ফোনসেট ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

সরকার পতনের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় এই তিন আসামি গ্রেপ্তার হন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে ফোনগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়।

আদালতের অনুমোদনের পর আসামিদের মোট সাতটি ফোনসেট সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যে পলকের ব্যবহৃত তিনটি, টুকু ও সৈকতের দুটি করে মোট সাতটি ফোনসেট রয়েছে। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে রাজি হননি।

ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন ডিজিটাল ডাটা পুনরুদ্ধার করা হয়। মোবাইল ফোনসহ যেকোনো ডিজিটাল ডিভাইস থেকে মুছে ফেলা ছবি, ভিডিও ও খুদে বার্তা সহ যাবতীয় ডকুমেন্ট ফিরে পাওয়া যায়। ২০২২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল তথ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আদালতে গৃহীত হয়।

মামলার নথিপত্র অনুসারে, গত বছর ২০ জুলাই পল্টন থানায় দায়েরকৃত রিকশাচালক কামাল মিয়া হত্যা মামলায় আসামিদের ব্যবহৃত ওই সাতটি মোবাইল ফোনসেট জব্দ করা হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহেল বাকী এগুলো ফরেনসিকে পাঠানোর আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, ‘আসামিরা সরকার এবং দলীয় নীতিনির্ধাতা ও ক্যাডার ছিলেন। এই মামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতা ও হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা শনাক্তের জন্য এসব ফোনের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা করা প্রয়োজন।’

জব্দ ফোনগুলোর মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের একটি আইফোন ১৫ প্রো ও দুটি স্যামসাং এস ২৪ আল্ট্রা, সাবেক ডেপুটি স্পিকার টুকুর ব্যবহৃত একটি নোকিয়া বাটন ফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এম ১৪ এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নেতা সৈকতের একটি আইফোন ও একটি ডোকোমো ৫জি মডেলের ফোন।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, জুলাই জুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন তীব্র হলে শেখ হাসিনা বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি ওই সময় মন্ত্রী-এমপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ফোন করে দফায় দফায় কথা বলেন। এক পর্যায়ে সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে বিশেষ ব্লকরেইড অভিযান চালানো হয়। আন্দোলনের রাশ টানতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত গুলি চালানোর নির্দেশ দেন ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র জানায়, ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দিতে শেখ হাসিনা পলকের কাছে ফোন করেন। একই সময়ে তিনি ডেপুটি স্পিকার টুকু ও ছাত্রলীগ নেতা সৈকতের ফোনেও বিশেষ বার্তা পাঠান। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল ও ভাইবারসহ বিভিন্ন যোগাযোগ অ্যাপসে বার্তা আদান-প্রদান করা হয়।

জুলাই হত্যাকাণ্ড: উত্তাল রাজনীতির গভীর সংকেত
জুলাই হত্যাকাণ্ড: উত্তাল রাজনীতির গভীর সংকেত

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার আসামিরা সরকার পতনের পর আত্মগোপনে গেলে তাদের ফোন থেকে সব ধরনের ডাটা মুছে ফেলা হয়। হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল ও ভাইবার অ্যাপস ডিলিট করা হয়। ফলে ফোনে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে ফোনগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করা হয় এবং অনুমোদন মঞ্জুর হয়।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আসামিদের তথ্য আদান-প্রদানের সময়কাল, বার্তার বিষয়বস্তু, মিডিয়া ফাইল আদান-প্রদান হয়েছিল কি না, মুছে ফেলা বা আর্কাইভড তথ্য, ইন্টারনেট বন্ধ সংক্রান্ত কথোপকথন, খুদে বার্তা, গোপনীয় অ্যাপস, ইমেইল আদান-প্রদান এবং তৃতীয় পক্ষের সংযোগ বিষয়গুলো তদন্তের জন্য জরুরি।

তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহেল বাকী জানান, বিষয়টি গোপনীয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কয়েকটি ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। রিপোর্টে তথ্য উল্লেখ করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রসিকিউটরিয়াল টিমের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজি বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলার তদন্তে ডিজিটাল তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলে তা বিচারে ম্যাটেরিয়াল ফ্যাক্টস হিসেবে গণ্য হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে

শেখ হাসিনার কল রেকর্ডের ম্যাটারিয়াল ফ্যাক্টস

সর্বশেষ আপডেট ১২:২৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

জুলাই হত্যাকাণ্ডের গোপন কল রেকর্ড ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ফোন। ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলন দমন কাণ্ডে দেশত্যাগী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার বিষয়টি এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং দলের বিশ্বস্ত নেতাকর্মীদের আন্দোলন দমনে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা তানভীর হাসান সৈকতের ব্যবহৃত ফোনসেট ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

সরকার পতনের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় এই তিন আসামি গ্রেপ্তার হন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে ফোনগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়।

আদালতের অনুমোদনের পর আসামিদের মোট সাতটি ফোনসেট সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যে পলকের ব্যবহৃত তিনটি, টুকু ও সৈকতের দুটি করে মোট সাতটি ফোনসেট রয়েছে। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে রাজি হননি।

ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন ডিজিটাল ডাটা পুনরুদ্ধার করা হয়। মোবাইল ফোনসহ যেকোনো ডিজিটাল ডিভাইস থেকে মুছে ফেলা ছবি, ভিডিও ও খুদে বার্তা সহ যাবতীয় ডকুমেন্ট ফিরে পাওয়া যায়। ২০২২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল তথ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আদালতে গৃহীত হয়।

মামলার নথিপত্র অনুসারে, গত বছর ২০ জুলাই পল্টন থানায় দায়েরকৃত রিকশাচালক কামাল মিয়া হত্যা মামলায় আসামিদের ব্যবহৃত ওই সাতটি মোবাইল ফোনসেট জব্দ করা হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহেল বাকী এগুলো ফরেনসিকে পাঠানোর আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, ‘আসামিরা সরকার এবং দলীয় নীতিনির্ধাতা ও ক্যাডার ছিলেন। এই মামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতা ও হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা শনাক্তের জন্য এসব ফোনের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা করা প্রয়োজন।’

জব্দ ফোনগুলোর মধ্যে রয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের একটি আইফোন ১৫ প্রো ও দুটি স্যামসাং এস ২৪ আল্ট্রা, সাবেক ডেপুটি স্পিকার টুকুর ব্যবহৃত একটি নোকিয়া বাটন ফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এম ১৪ এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নেতা সৈকতের একটি আইফোন ও একটি ডোকোমো ৫জি মডেলের ফোন।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, জুলাই জুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন তীব্র হলে শেখ হাসিনা বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি ওই সময় মন্ত্রী-এমপি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ফোন করে দফায় দফায় কথা বলেন। এক পর্যায়ে সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে বিশেষ ব্লকরেইড অভিযান চালানো হয়। আন্দোলনের রাশ টানতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত গুলি চালানোর নির্দেশ দেন ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র জানায়, ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দিতে শেখ হাসিনা পলকের কাছে ফোন করেন। একই সময়ে তিনি ডেপুটি স্পিকার টুকু ও ছাত্রলীগ নেতা সৈকতের ফোনেও বিশেষ বার্তা পাঠান। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল ও ভাইবারসহ বিভিন্ন যোগাযোগ অ্যাপসে বার্তা আদান-প্রদান করা হয়।

জুলাই হত্যাকাণ্ড: উত্তাল রাজনীতির গভীর সংকেত
জুলাই হত্যাকাণ্ড: উত্তাল রাজনীতির গভীর সংকেত

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার আসামিরা সরকার পতনের পর আত্মগোপনে গেলে তাদের ফোন থেকে সব ধরনের ডাটা মুছে ফেলা হয়। হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল ও ভাইবার অ্যাপস ডিলিট করা হয়। ফলে ফোনে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে ফোনগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করা হয় এবং অনুমোদন মঞ্জুর হয়।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আসামিদের তথ্য আদান-প্রদানের সময়কাল, বার্তার বিষয়বস্তু, মিডিয়া ফাইল আদান-প্রদান হয়েছিল কি না, মুছে ফেলা বা আর্কাইভড তথ্য, ইন্টারনেট বন্ধ সংক্রান্ত কথোপকথন, খুদে বার্তা, গোপনীয় অ্যাপস, ইমেইল আদান-প্রদান এবং তৃতীয় পক্ষের সংযোগ বিষয়গুলো তদন্তের জন্য জরুরি।

তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহেল বাকী জানান, বিষয়টি গোপনীয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কয়েকটি ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। রিপোর্টে তথ্য উল্লেখ করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রসিকিউটরিয়াল টিমের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজি বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলার তদন্তে ডিজিটাল তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলে তা বিচারে ম্যাটেরিয়াল ফ্যাক্টস হিসেবে গণ্য হবে।