ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুল্ক কমাতে সময় ও সহায়তা চাচ্ছে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:২৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • / 264

ইউনূস-ট্রাম্প

বাংলাদেশ আজ (২২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পারস্পরিক শুল্ক চুক্তির প্রেক্ষিতে নিজের খসড়া অবস্থানপত্র জমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ে ( ইউএসটিআর)। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা বৈঠকের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেনি।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, আলোচনা শুরুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। তবে মার্কিন পক্ষ থেকে এখনও সময় জানানো হয়নি।

খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, পরিবেশ, শ্রম অধিকারসহ কিছু অ-বাণিজ্যিক শর্ত বাস্তবায়নে ৫ থেকে ১০ বছর সময় চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ব্যবসা-বাণিজ্যের বাধা দূর করতে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চাওয়া হবে।

চূড়ান্ত খসড়া তৈরিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। আজ সকালে এই খসড়া ই-মেইলের মাধ্যমে ইউএসটিআরের কাছে পাঠানো হবে।

যদি উভয় দেশ এই খসড়ায় একমত হয়, তবে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এর আওতায়, বাংলাদেশের ওপর বর্তমানে আরোপিত ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস পেতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১ আগস্ট থেকে এ শুল্কহার কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন।

চুক্তি নিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২০ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় দেওয়া এবং সরকারি পর্যায়ে আমদানি বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া কিছু অ-বাণিজ্যিক শর্তে বাংলাদেশ সরাসরি সম্মতি দিচ্ছে না। এসব শর্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি সময় চাওয়া হচ্ছে—কোনো শর্তে ৫ বছর, আবার কোনো ক্ষেত্রে ১০ বছর পর্যন্ত।

এ প্রসঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ টেনে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইন্দোনেশিয়া একটি লবিস্ট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কহার ৩২ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নন-ডিসক্লোজার চুক্তির কারণে শর্তাদি প্রকাশ করা যাচ্ছে না, ফলে লবিস্ট নিয়োগের পথ আপাতত বন্ধ।

বাংলাদেশ আশা করছে, এই আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি বাস্তবসম্মত, পরস্পর সম্মানজনক বাণিজ্যিক সমঝোতায় পৌঁছানো যাবে, যাতে দেশীয় শিল্প ও অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শুল্ক কমাতে সময় ও সহায়তা চাচ্ছে বাংলাদেশ

সর্বশেষ আপডেট ১২:২৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশ আজ (২২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পারস্পরিক শুল্ক চুক্তির প্রেক্ষিতে নিজের খসড়া অবস্থানপত্র জমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ে ( ইউএসটিআর)। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা বৈঠকের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেনি।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, আলোচনা শুরুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। তবে মার্কিন পক্ষ থেকে এখনও সময় জানানো হয়নি।

খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, পরিবেশ, শ্রম অধিকারসহ কিছু অ-বাণিজ্যিক শর্ত বাস্তবায়নে ৫ থেকে ১০ বছর সময় চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ব্যবসা-বাণিজ্যের বাধা দূর করতে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চাওয়া হবে।

চূড়ান্ত খসড়া তৈরিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। আজ সকালে এই খসড়া ই-মেইলের মাধ্যমে ইউএসটিআরের কাছে পাঠানো হবে।

যদি উভয় দেশ এই খসড়ায় একমত হয়, তবে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এর আওতায়, বাংলাদেশের ওপর বর্তমানে আরোপিত ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস পেতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১ আগস্ট থেকে এ শুল্কহার কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন।

চুক্তি নিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২০ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় দেওয়া এবং সরকারি পর্যায়ে আমদানি বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া কিছু অ-বাণিজ্যিক শর্তে বাংলাদেশ সরাসরি সম্মতি দিচ্ছে না। এসব শর্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি সময় চাওয়া হচ্ছে—কোনো শর্তে ৫ বছর, আবার কোনো ক্ষেত্রে ১০ বছর পর্যন্ত।

এ প্রসঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ টেনে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইন্দোনেশিয়া একটি লবিস্ট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কহার ৩২ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নন-ডিসক্লোজার চুক্তির কারণে শর্তাদি প্রকাশ করা যাচ্ছে না, ফলে লবিস্ট নিয়োগের পথ আপাতত বন্ধ।

বাংলাদেশ আশা করছে, এই আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি বাস্তবসম্মত, পরস্পর সম্মানজনক বাণিজ্যিক সমঝোতায় পৌঁছানো যাবে, যাতে দেশীয় শিল্প ও অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবে।