ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুল্ক উত্তেজনার মাঝে কুয়ালালামপুরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
  • / 154

বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

শুক্রবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি হয় পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন ও আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের আগে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়ার পর রুবিওর এটিই এশিয়ায় প্রথম সফর।

এই সফরে রুবিওর লক্ষ্য—চীনকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও গ্রহণযোগ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরা। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে এশিয়ার বহু দেশের মধ্যেই অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মায়ানমার ও লাওসের ওপর ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে।

চীনের প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই একে ‘গুন্ডামিমূলক আচরণ’ এবং ‘অবৈধ শুল্ক চাপ’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এটি শুধু মুক্তবাজার অর্থনীতির ক্ষতি করছে না, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে ফেলছে।

এদিন ওয়াং ই কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ডসহ একাধিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন এবং বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর উচিত নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করা।

অন্যদিকে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে শুল্কভিত্তিক বাণিজ্য নীতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ জানান।

তারা স্বচ্ছ, ন্যায্য ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য কাঠামোর পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘নতুন ও উদীয়মান অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য বৈচিত্র্য আনতে হবে।’

এই বৈঠক ও বিবৃতি বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য কাঠামো এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতে পারে বলেই বিশ্লেষকদের অভিমত।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শুল্ক উত্তেজনার মাঝে কুয়ালালামপুরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠক

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

শুক্রবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি হয় পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন ও আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের আগে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়ার পর রুবিওর এটিই এশিয়ায় প্রথম সফর।

এই সফরে রুবিওর লক্ষ্য—চীনকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও গ্রহণযোগ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরা। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে এশিয়ার বহু দেশের মধ্যেই অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মায়ানমার ও লাওসের ওপর ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে।

চীনের প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই একে ‘গুন্ডামিমূলক আচরণ’ এবং ‘অবৈধ শুল্ক চাপ’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এটি শুধু মুক্তবাজার অর্থনীতির ক্ষতি করছে না, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে ফেলছে।

এদিন ওয়াং ই কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ডসহ একাধিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন এবং বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর উচিত নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করা।

অন্যদিকে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে শুল্কভিত্তিক বাণিজ্য নীতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ জানান।

তারা স্বচ্ছ, ন্যায্য ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য কাঠামোর পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘নতুন ও উদীয়মান অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য বৈচিত্র্য আনতে হবে।’

এই বৈঠক ও বিবৃতি বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য কাঠামো এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতে পারে বলেই বিশ্লেষকদের অভিমত।