শীতে অ্যালার্জি ও ঠান্ডাজনিত সমস্যা থেকে বাঁচতে
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
- / 83
শীতের আগমন শুরু হতেই আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসে। সকালে হালকা কুয়াশা পড়ে, আর সন্ধ্যা নামলেই ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকে। এই সময়ে অ্যালার্জি ও ঠান্ডাজনিত সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
শীতে অ্যালার্জি ও ঠান্ডাজনিত সমস্যা এড়াতে এবং প্রতিকার করতে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। তবে সমস্যা তীব্র হলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রতিরোধের উপায়:
পরিচ্ছন্ন পরিবেশ: ঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। ধুলোবালি, ছাঁচের স্পোর এবং পোষা প্রাণীর খুশকি শীতকালীন অ্যালার্জির প্রধান কারণ, যা ঘরের ভেতরে বেশি থাকে।
ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলুন: বাইরে বেরোলে পর্যাপ্ত গরম কাপড়, কান-ঢাকা টুপি, মাফলার এবং ফিল্টার মাস্ক ব্যবহার করুন। ঠান্ডা বাতাস সরাসরি শ্বাসনালীতে প্রবেশ করলে সমস্যা বাড়তে পারে।
হাইড্রেটেড থাকুন: প্রচুর পরিমাণে পরিষ্কার তরল পান করুন, যেমন জল, ফলের রস বা ঝোল। এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্য: ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার, যেমন কমলালেবু, স্ট্রবেরি, আপেল ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখুন, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ধূমপান ও ধুলাবালি এড়িয়ে চলুন: ধূমপান এবং ধুলাবালি অ্যালার্জির সমস্যা বাড়িয়ে দেয়, তাই এগুলো থেকে দূরে থাকুন।
নিয়মিত গোসল: প্রতিদিন স্বাভাবিক বা হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করুন, কারণ শরীরে ময়লা জমলে রোগজীবাণু বাসা বাঁধতে পারে।
প্রতিকার ও চিকিৎসা:
গরম পানির ব্যবহার: সর্দি-কাশি হলে কুসুম গরম পানি পান করুন এবং হালকা গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করুন।
আদা ও মধু: মধু ও আদা চা গলা ব্যথা এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধে কার্যকর। প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এটি পান করতে পারেন।
স্টিম থেরাপি: গরম পানির বাষ্প নিলে বন্ধ নাক খুলতে সাহায্য করে এবং শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখে।
ওষুধ: হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানি ইত্যাদির উপশমের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ (যেমন সেটিরিজিন, লোরাটাডিন) ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে কর্টিকোস্টেরয়েড নাসাল স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষ সতর্কতা: যদি হাঁপানি বা অ্যাজমার সমস্যা থাকে, শীতকালে আরও সতর্ক থাকুন এবং মাস্ক ব্যবহার করুন। সর্দি বা ফ্লু অ্যাজমার আক্রমণকে ট্রিগার করতে পারে।
যদি ঘরোয়া প্রতিকারে সমস্যা কমে না বা লক্ষণ তীব্র হয়, তবে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।





































