শিশু হাসপাতালের সেই ৬৫ চিকিৎসকের নিয়োগ বাতিল
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
- / 186
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে নিয়োগ পাওয়া ৬৫ জন চিকিৎসকের চাকরি অবশেষে বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম।
তিনি জানান, বিভিন্ন মহলের আপত্তি ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিচালনা বোর্ডের সভায় আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন নিয়ম অনুযায়ী গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নতুন করে ৪২ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই কোনো লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই ৬৫ জন চিকিৎসককে অভ্যন্তরীণভাবে নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়োগ নিয়ে চিকিৎসক সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, কারণ নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তার ধারক হিসেবে পরিচিত।
নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে উঠেছে একাধিক অভিযোগ: কোনো জাতীয় দৈনিকে বা হাসপাতালের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি, গোপন অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়, লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা ছিল না
এবং বেশিরভাগ নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন পূর্বে অনারারি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত, যাদের মধ্যে অনেকেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তে গেলে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মেলে। তদন্ত শেষে মন্ত্রণালয় থেকে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।
বঞ্চিত চিকিৎসকদের অভিযোগ, ২০২১ সালেও একইভাবে ৬০ জন চিকিৎসককে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে পরে স্থায়ী করা হয়েছিল। এবারও একই কৌশল গ্রহণ করায় তারা এটিকে “জুলাই বিপ্লবের আদর্শের সঙ্গে প্রতারণা” বলে অভিহিত করছেন।
তাদের বক্তব্য, “যদিও শিশু হাসপাতাল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সরকার এর এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় বহন করে। ফলে নিয়োগে স্বচ্ছতা ও নিয়মকানুন মানার বিষয়টি বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। অথচ প্রতিটি ধাপে তা উপেক্ষিত হয়েছে।”
বর্তমানে নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির প্রস্তুতি চলছে, যেখানে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক।
































