ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিবপুর পিআইও অফিসে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ, আটক দুইজন

সিনিয়র প্রতিবেদক, নরসিংদী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • / 327

শিবপুর পিআইও অফিসে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ, আটক দুইজন

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের (পিআইও) টিআর/কাবিখা প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছে। মোট ১৯১টি প্রকল্প বিলের মধ্যে ৮১টি বিলের মাধ্যমে জালিয়াতি করে প্রায় ৫২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের, পরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) গোপনে অনুসন্ধান চালিয়ে জালিয়াতির প্রমাণ পায়।

জানা যায়, গত ১৫ জুন পিআইও কার্যালয় থেকে টিআর/কাবিখা প্রকল্পের ১৯১টি বিল হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু বাজেট ঘাটতির কারণে ২৬ জুন ৮১টি বিল ফেরত (বাউন্স) হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে এনএসআই ২৮ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত গোপন অনুসন্ধান চালায় এবং ওই অফিসের কার্যসহকারী (প্রজেক্ট) তুহিন ও আউটসোর্সিং পিয়ন আশিককে প্রাথমিকভাবে দায়ী করে।

তদন্তে উঠে আসে—জাল সই, ভুয়া প্রকল্প এবং ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজসহ নানা তথ্যের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। পিয়ন আশিক জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি স্বীকারও করেন।

পরবর্তীতে এনএসআই প্রাপ্ত তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক দুইজন অভিযুক্তকে আটক করার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, শিবপুর মডেল থানা পুলিশ ১ জুলাই রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আত্মসাৎ করা টাকার মধ্যে ৫২ লাখ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। মামলার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং শিগগিরই দুর্নীতির পুরো চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শিবপুর পিআইও অফিসে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ, আটক দুইজন

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের (পিআইও) টিআর/কাবিখা প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছে। মোট ১৯১টি প্রকল্প বিলের মধ্যে ৮১টি বিলের মাধ্যমে জালিয়াতি করে প্রায় ৫২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের, পরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) গোপনে অনুসন্ধান চালিয়ে জালিয়াতির প্রমাণ পায়।

জানা যায়, গত ১৫ জুন পিআইও কার্যালয় থেকে টিআর/কাবিখা প্রকল্পের ১৯১টি বিল হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু বাজেট ঘাটতির কারণে ২৬ জুন ৮১টি বিল ফেরত (বাউন্স) হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে এনএসআই ২৮ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত গোপন অনুসন্ধান চালায় এবং ওই অফিসের কার্যসহকারী (প্রজেক্ট) তুহিন ও আউটসোর্সিং পিয়ন আশিককে প্রাথমিকভাবে দায়ী করে।

তদন্তে উঠে আসে—জাল সই, ভুয়া প্রকল্প এবং ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজসহ নানা তথ্যের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। পিয়ন আশিক জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি স্বীকারও করেন।

পরবর্তীতে এনএসআই প্রাপ্ত তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক দুইজন অভিযুক্তকে আটক করার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, শিবপুর মডেল থানা পুলিশ ১ জুলাই রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আত্মসাৎ করা টাকার মধ্যে ৫২ লাখ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। মামলার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং শিগগিরই দুর্নীতির পুরো চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।