ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অবরোধ প্রত্যাহার

শাহবাগে জুলাই যোদ্ধাদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:১৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫
  • / 135

শাহবাগে জুলাই যোদ্ধাদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ

রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবরোধকারী ‘জুলাই যোদ্ধা’দের ওপর হামলা চালিয়েছে ‘প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করা আরেকটি পক্ষ। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে শাহবাগ মোড় দিয়ে আবার যান চলাচল শুরু হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করা একটি পক্ষ। তখন থেকেই শাহবাগে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

রাত পেরিয়ে শুক্রবার সকালেও সড়কের মাঝে ত্রিপল বিছিয়ে অবস্থান করছিলেন তারা। অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে চলছিল বক্তৃতা। সড়কের চারদিকে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। বিকেলে ‘জুলাই যোদ্ধা’দের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়।

এক পক্ষের অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা সুবিধাভোগী ও ষড়যন্ত্রকারী। আরেক পক্ষের দাবি, আন্দোলন ভেস্তে দিতে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী দোসররা। দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগের মূল সড়ক ছেড়ে চলে গেলে যান চলাচল শুরু হয়।

রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘‘‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে একদল লোক বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছিল। তাদের বারবার অনুরোধ করেও সরানো যায়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় একই দাবি নিয়ে আরেকটি দল সেখানে আসে। দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়। পরে শাহবাগ মোড় পুরোপুরি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।’’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে একটি পক্ষ শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে। শুক্রবার বিকেলে ‘জুলাই যোদ্ধা’দের আরেকটি পক্ষ অবরোধের বিরোধিতা করলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সংঘাত এড়াতে পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়।

অবরোধবিরোধী ‘জুলাই যোদ্ধা’রা সাংবাদিকদের বলেন, প্রকৃত ‘জুলাই যোদ্ধা’রা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারেন না। কিন্তু ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে কিছু লোক শাহবাগ মোড় অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করছেন। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় যান চলাচল তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে শাহবাগ অবরোধ থাকায় অনেক মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শাহবাগ মোড়কে কেন্দ্র করে চারপাশের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো হয়েছিল। তবে শুক্রবার বিকেলে পাশের সড়কগুলো খুলে দেওয়া হয়। কাটাবন থেকে আসা যানবাহন পিজি হাসপাতালের সামনে দিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে যেতে পারছিল এবং ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের রাস্তাও মৎস্য ভবনের দিকে খুলে দেওয়া হয়।

অবরোধকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি প্রদান।

শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের জন্য আজীবন সম্মান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কল্যাণের পূর্ণ নিশ্চয়তা।

শহীদ পরিবার ও আহতদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ।

আহতদের সব চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও কল্যাণ ব্যয় রাষ্ট্রকে বহন করা।

আহত ও শহীদ পরিবারের জন্য আজীবন সম্মানজনক ভাতা নিশ্চিত করা।

শহীদ ও আহতদের জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষা ও সহায়তাকেন্দ্র গঠন।

তাদের ওপর সংঘটিত দমন-পীড়নের জন্য দায়ীদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার।

একটি স্বাধীন ‘সত্য ও ন্যায় কমিশন’ গঠন।

গত ২২ জুন ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ‘জুলাই যোদ্ধা সংসদ’ সংবাদ সম্মেলন করে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

তারা সরকারের প্রতি প্রতিশ্রুতি পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি না পালন করলে তারা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।

রাজধানীর শাহবাগে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর গেটের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নেতারা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‘জুলাই যোদ্ধা সংসদ’-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আরমান হোসেন শাফিন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মুখপাত্র মুশফিকুর রহমান আশিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অবরোধ প্রত্যাহার

শাহবাগে জুলাই যোদ্ধাদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ

সর্বশেষ আপডেট ১০:১৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫

রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবরোধকারী ‘জুলাই যোদ্ধা’দের ওপর হামলা চালিয়েছে ‘প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করা আরেকটি পক্ষ। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে শাহবাগ মোড় দিয়ে আবার যান চলাচল শুরু হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করা একটি পক্ষ। তখন থেকেই শাহবাগে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

রাত পেরিয়ে শুক্রবার সকালেও সড়কের মাঝে ত্রিপল বিছিয়ে অবস্থান করছিলেন তারা। অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে চলছিল বক্তৃতা। সড়কের চারদিকে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। বিকেলে ‘জুলাই যোদ্ধা’দের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়।

এক পক্ষের অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা সুবিধাভোগী ও ষড়যন্ত্রকারী। আরেক পক্ষের দাবি, আন্দোলন ভেস্তে দিতে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী দোসররা। দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগের মূল সড়ক ছেড়ে চলে গেলে যান চলাচল শুরু হয়।

রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘‘‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে একদল লোক বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছিল। তাদের বারবার অনুরোধ করেও সরানো যায়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় একই দাবি নিয়ে আরেকটি দল সেখানে আসে। দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়। পরে শাহবাগ মোড় পুরোপুরি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।’’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে একটি পক্ষ শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে। শুক্রবার বিকেলে ‘জুলাই যোদ্ধা’দের আরেকটি পক্ষ অবরোধের বিরোধিতা করলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সংঘাত এড়াতে পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়।

অবরোধবিরোধী ‘জুলাই যোদ্ধা’রা সাংবাদিকদের বলেন, প্রকৃত ‘জুলাই যোদ্ধা’রা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারেন না। কিন্তু ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে কিছু লোক শাহবাগ মোড় অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করছেন। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় যান চলাচল তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে শাহবাগ অবরোধ থাকায় অনেক মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শাহবাগ মোড়কে কেন্দ্র করে চারপাশের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো হয়েছিল। তবে শুক্রবার বিকেলে পাশের সড়কগুলো খুলে দেওয়া হয়। কাটাবন থেকে আসা যানবাহন পিজি হাসপাতালের সামনে দিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে যেতে পারছিল এবং ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের রাস্তাও মৎস্য ভবনের দিকে খুলে দেওয়া হয়।

অবরোধকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি প্রদান।

শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের জন্য আজীবন সম্মান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কল্যাণের পূর্ণ নিশ্চয়তা।

শহীদ পরিবার ও আহতদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ।

আহতদের সব চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও কল্যাণ ব্যয় রাষ্ট্রকে বহন করা।

আহত ও শহীদ পরিবারের জন্য আজীবন সম্মানজনক ভাতা নিশ্চিত করা।

শহীদ ও আহতদের জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষা ও সহায়তাকেন্দ্র গঠন।

তাদের ওপর সংঘটিত দমন-পীড়নের জন্য দায়ীদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার।

একটি স্বাধীন ‘সত্য ও ন্যায় কমিশন’ গঠন।

গত ২২ জুন ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ‘জুলাই যোদ্ধা সংসদ’ সংবাদ সম্মেলন করে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

তারা সরকারের প্রতি প্রতিশ্রুতি পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি না পালন করলে তারা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।

রাজধানীর শাহবাগে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর গেটের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নেতারা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‘জুলাই যোদ্ধা সংসদ’-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আরমান হোসেন শাফিন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মুখপাত্র মুশফিকুর রহমান আশিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।