ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শাহপরীর দ্বীপের ডিলার পুয়া আয়ুব গ্রেপ্তার হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ (কক্সবাজার)
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • / 317

শাহপরীর দ্বীপের ডিলার পুয়া আয়ুব গ্রেপ্তার হয়নি

শাহপরীর দ্বীপের কুখ্যাত সন্ত্রাসী, প্রতারক এবং ধর্ষণ মামলার আসামি আয়ুব খান (ডিলার পুয়া আয়ুব নামে পরিচিত) এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলার পলাতক এই আসামি দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও, রহস্যজনক কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সাম্প্রতিক অভিযোগ উঠে, আয়ুব খান সাবরাং এলাকার বেশ কয়েকজন নারীর কাছ থেকে সরকারি ত্রাণ দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া গত ১ জুন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে রক্ত দেওয়ার নাম করে এক বৃদ্ধ রোগীর স্বজনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায় করে পালিয়ে যায় সে।

ভুক্তভোগী বলেন, “ছেলেটি নিজেকে ব্লাড ডোনার বলে পরিচয় দেয়। রক্তের ব্যবস্থা করবে বলে টাকা নেয় এবং কাউন্টারে জমা দেওয়ার কথা বলে সটকে পড়ে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর পাইনি। পরে জানতে পারি, সে আরও অনেকের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করেছে।”

এই প্রতারণার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় “কক্সবাজার ব্লাড ডোনার সোসাইটি”। সংগঠনের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরলে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে আয়ুব খানের পরিচয় প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকে আয়ুব খান উল্টো ওই ঘটনার তথ্যদাতা ব্যক্তিকে সামাজিক মাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এমনকি “Teknaf 24” নামে একটি স্থানীয় পেজে সংবাদ প্রকাশ করে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টাও করা হয়, যা পরে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় মুছে ফেলতে বাধ্য হয় সংবাদটি।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আয়ুব খানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আয়ুব খানের পেছনে রয়েছে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ছত্রছায়া। গণমাধ্যমে একাধিকবার তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশ পেলেও আইনের হাত তার নাগাল পর্যন্ত পৌঁছায়নি। বিষয়টি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে – আইন কি কেবল দুর্বলদের জন্য?

স্থানীয়দের দাবি, আয়ুব খানকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে মানুষ আইনের প্রতি আস্থা ফিরে পায় এবং সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ হয়।

একজন ভুক্তভোগী বলেন— “অপরাধীর কোনো দল বা পরিচয় থাকতে পারে না, সে যেই হোক না কেন, আইনের আওতায় আসতেই হবে। না হলে সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করবে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শাহপরীর দ্বীপের ডিলার পুয়া আয়ুব গ্রেপ্তার হয়নি

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

শাহপরীর দ্বীপের কুখ্যাত সন্ত্রাসী, প্রতারক এবং ধর্ষণ মামলার আসামি আয়ুব খান (ডিলার পুয়া আয়ুব নামে পরিচিত) এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলার পলাতক এই আসামি দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও, রহস্যজনক কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সাম্প্রতিক অভিযোগ উঠে, আয়ুব খান সাবরাং এলাকার বেশ কয়েকজন নারীর কাছ থেকে সরকারি ত্রাণ দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া গত ১ জুন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে রক্ত দেওয়ার নাম করে এক বৃদ্ধ রোগীর স্বজনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায় করে পালিয়ে যায় সে।

ভুক্তভোগী বলেন, “ছেলেটি নিজেকে ব্লাড ডোনার বলে পরিচয় দেয়। রক্তের ব্যবস্থা করবে বলে টাকা নেয় এবং কাউন্টারে জমা দেওয়ার কথা বলে সটকে পড়ে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর পাইনি। পরে জানতে পারি, সে আরও অনেকের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করেছে।”

এই প্রতারণার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় “কক্সবাজার ব্লাড ডোনার সোসাইটি”। সংগঠনের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরলে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে আয়ুব খানের পরিচয় প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকে আয়ুব খান উল্টো ওই ঘটনার তথ্যদাতা ব্যক্তিকে সামাজিক মাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এমনকি “Teknaf 24” নামে একটি স্থানীয় পেজে সংবাদ প্রকাশ করে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টাও করা হয়, যা পরে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় মুছে ফেলতে বাধ্য হয় সংবাদটি।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আয়ুব খানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আয়ুব খানের পেছনে রয়েছে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ছত্রছায়া। গণমাধ্যমে একাধিকবার তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশ পেলেও আইনের হাত তার নাগাল পর্যন্ত পৌঁছায়নি। বিষয়টি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে – আইন কি কেবল দুর্বলদের জন্য?

স্থানীয়দের দাবি, আয়ুব খানকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে মানুষ আইনের প্রতি আস্থা ফিরে পায় এবং সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ হয়।

একজন ভুক্তভোগী বলেন— “অপরাধীর কোনো দল বা পরিচয় থাকতে পারে না, সে যেই হোক না কেন, আইনের আওতায় আসতেই হবে। না হলে সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করবে।”