শাহজাহান চৌধুরীকে গ্রেফতার দাবি বিএনপির, জামায়াত বলছে ব্যক্তিগত
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৭:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- / 73
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর ‘বিতর্কিত’ বক্তব্যের জন্য তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। আবার জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য বলে জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে তীব্র নিন্দা, গভীর ক্ষোভ এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আহ্বায়ক মো. এরশাদ উল্লাহ এবং সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।
রোববার (২৩ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, ‘গণতন্ত্র, নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে এই উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানের কারণে শাহজাহান চৌধুরীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
গত শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী নির্বাচনী দায়িত্বশীলদের সমাবেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শুধু জনগণকে দিয়ে নয়। আমি ন্যাশনালি বলব না, যার যার নির্বাচনী এলাকায়, প্রশাসনে যারা আছে, তাদেরকে অবশ্যই আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, বসবে, গ্রেপ্তার করবে, মামলা করবে।’ পরে তার বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বক্তব্যের প্রতিবাদে বিবৃতিতে মহানগর বিএনপির শীর্ষ দুই নেতারা বলেন, ‘শাহজাহান চৌধুরীর এই মন্তব্য শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয়, বরং স্পষ্টতই ষড়যন্ত্রপ্রসূত, ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবপূর্ণ। প্রশাসনের প্রতি প্রকাশ্য হুমকি, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত এবং জনগণের ভোটাধিকারকে খর্ব করার উদ্দেশ্যে এমন বক্তব্য প্রদান রাজনৈতিক দায়িত্ববোধবর্জিত আচরণের জঘন্য উদাহরণ।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব যৌথ বিবৃতিতে দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, শাহজাহান চৌধুরীকে তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং স্বৈরতান্ত্রিক বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে জনসমক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য নিয়ে ‘বিতর্ক’ সৃষ্টির পর জামায়াত নেতারা ওই বক্তব্যকে তার ব্যক্তিগত মন্তব্য বলে জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কোনো বক্তব্য নয়। দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আরো বলেন, প্রশাসন পূর্ণ পেশাদারি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে। এখানে দলীয় হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। কারণ এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।
এছাড়া শাহজাহান চৌধুরী নিজেও তার ভাইরাল হওয়া বক্তব্যের বিষয়ে দাবি করেছেন, খণ্ডিত বক্তব্য প্রচারে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
































