ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শামা ওবায়েদ মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ, নির্বাচনের পথে প্রস্তুতি

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 79

শামা ওবায়েদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম (রিংকু) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। নির্বাচন কমিশনে ২৮ ডিসেম্বর জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।

শামা ওবায়েদ এক সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের নাগরিক ছিলেন। তবে গত ২০ নভেম্বর তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। হলফনামায় তার বয়স দেখানো হয়েছে ৫২ বছর ৭ মাস ১৫ দিন। শিক্ষাগত যোগ্যতা বিজ্ঞানে স্নাতক (কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শামা ওবায়েদ নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (আইজিসিএফ) জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, তার নামে মোট ১৮টি মামলা ছিল। এর মধ্যে একটি মামলায় খালাস পেয়েছেন। ২০২৫ সালে ৮টি মামলা প্রত্যাহার হয়েছে এবং আরও ৮টি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে একটি হত্যা মামলা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।

শামা ওবায়েদ তার বার্ষিক আয় ২১,৮৯,০৭১ টাকা দেখিয়েছেন। এর মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে ১২,৬০,০০০ টাকা, শেয়ার ও ব্যাংক আমানতের মুনাফা ৪৬,৪০৪ টাকা, চাকরির সম্মানী বাবদ ৭,৮৬,৬৬৭ টাকা এবং সম্মানী ভাতা বাবদ ৯৬,০০০ টাকা। ২০১৮ সালে তার মোট আয় ছিল ৩০,০৬,৮২৫ টাকা। অর্থাৎ সাত বছরে আয় কমেছে ৮,১৭,৭৫৪ টাকা।

অস্থাবর সম্পদে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০১৮ সালে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১,৫৩,৮২,২৮৭ টাকা, যা ২০২৫ সালের হলফনামায় বেড়ে ৩,৬২,৮৫,৮০৬ টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৪,৩৭,৮৫,৮০৬ টাকা। এর মধ্যে নগদ টাকা ২,৫২,৫১,৮৯৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৩০,৩৩,৯১২ টাকা, শেয়ার ও বন্ড ৫০ লাখ টাকা, একটি জিপ গাড়ি ৩০ লাখ টাকা এবং ৫০ তোলা সোনা রয়েছে।

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে তার অর্জনকালীন মূল্য ৬,৯৩,২০,০০০ টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এতে রয়েছে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষি জমি এবং ঢাকার বনানীতে ৩,২৪৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। ২০১৮ সালে স্থাবর সম্পদ ছিল ৭,০৩,২০,০০০ টাকা।

ঋণের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০১৮ সালে শামা ওবায়েদ ৩,০৫,০০,০০০ টাকার ঋণ নিয়েছিলেন, যা পরিশোধ করেছেন।

হলফনামায় নির্ভরশীল হিসেবেও পরিবারের বড় অঙ্কের সম্পদের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তার স্বামী মুস্তাজিরুল শোভন ইসলাম, পুত্র আরভীন ওবায়েদ ইসলামকে নির্ভরশীল হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সাত বছরের ব্যবধানে শামা ওবায়েদের আয় কমলেও অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ হয়েছে এবং নাগরিকত্বের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শামা ওবায়েদ মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ, নির্বাচনের পথে প্রস্তুতি

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম (রিংকু) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। নির্বাচন কমিশনে ২৮ ডিসেম্বর জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।

শামা ওবায়েদ এক সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের নাগরিক ছিলেন। তবে গত ২০ নভেম্বর তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। হলফনামায় তার বয়স দেখানো হয়েছে ৫২ বছর ৭ মাস ১৫ দিন। শিক্ষাগত যোগ্যতা বিজ্ঞানে স্নাতক (কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শামা ওবায়েদ নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (আইজিসিএফ) জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, তার নামে মোট ১৮টি মামলা ছিল। এর মধ্যে একটি মামলায় খালাস পেয়েছেন। ২০২৫ সালে ৮টি মামলা প্রত্যাহার হয়েছে এবং আরও ৮টি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে একটি হত্যা মামলা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।

শামা ওবায়েদ তার বার্ষিক আয় ২১,৮৯,০৭১ টাকা দেখিয়েছেন। এর মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে ১২,৬০,০০০ টাকা, শেয়ার ও ব্যাংক আমানতের মুনাফা ৪৬,৪০৪ টাকা, চাকরির সম্মানী বাবদ ৭,৮৬,৬৬৭ টাকা এবং সম্মানী ভাতা বাবদ ৯৬,০০০ টাকা। ২০১৮ সালে তার মোট আয় ছিল ৩০,০৬,৮২৫ টাকা। অর্থাৎ সাত বছরে আয় কমেছে ৮,১৭,৭৫৪ টাকা।

অস্থাবর সম্পদে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০১৮ সালে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১,৫৩,৮২,২৮৭ টাকা, যা ২০২৫ সালের হলফনামায় বেড়ে ৩,৬২,৮৫,৮০৬ টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৪,৩৭,৮৫,৮০৬ টাকা। এর মধ্যে নগদ টাকা ২,৫২,৫১,৮৯৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৩০,৩৩,৯১২ টাকা, শেয়ার ও বন্ড ৫০ লাখ টাকা, একটি জিপ গাড়ি ৩০ লাখ টাকা এবং ৫০ তোলা সোনা রয়েছে।

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে তার অর্জনকালীন মূল্য ৬,৯৩,২০,০০০ টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এতে রয়েছে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষি জমি এবং ঢাকার বনানীতে ৩,২৪৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। ২০১৮ সালে স্থাবর সম্পদ ছিল ৭,০৩,২০,০০০ টাকা।

ঋণের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০১৮ সালে শামা ওবায়েদ ৩,০৫,০০,০০০ টাকার ঋণ নিয়েছিলেন, যা পরিশোধ করেছেন।

হলফনামায় নির্ভরশীল হিসেবেও পরিবারের বড় অঙ্কের সম্পদের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তার স্বামী মুস্তাজিরুল শোভন ইসলাম, পুত্র আরভীন ওবায়েদ ইসলামকে নির্ভরশীল হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সাত বছরের ব্যবধানে শামা ওবায়েদের আয় কমলেও অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ হয়েছে এবং নাগরিকত্বের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে।