ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শর্তহীন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে কম্বোডিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:০৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
  • / 92

শর্তহীন যুদ্ধবিরতি চায় কম্বোডিয়া

থাইল্যান্ডের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে কম্বোডিয়া। দুই দেশ বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) থেকে সীমান্তে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন, এবং উভয় দেশে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সংঘর্ষ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় কম্বোডিয়া অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূত ছেয়া কেও এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা শর্তহীন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছি এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান কামনা করছি।”

তবে থাইল্যান্ড এখনো কম্বোডিয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে কম্বোডিয়া তাদের সীমান্তবর্তী আটটি জেলায় সামরিক আইন জারি করে।
থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই শুক্রবার সতর্ক করে বলেন, সংঘর্ষ “যুদ্ধের দিকেও গড়াতে পারে।” তিনি জানান, সংঘর্ষ বর্তমানে ১২টি সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং এতে ভারী অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে।

থাইল্যান্ডের দাবি, কম্বোডিয়ার বাহিনী বেসামরিক এলাকায় রকেট ছুড়েছে এবং আশপাশের সব গ্রাম খালি করে ফেলা হয়েছে। অপরদিকে, কম্বোডিয়ার অভিযোগ, থাই সেনারা সংঘর্ষে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করেছে, যা অধিকাংশ দেশেই নিষিদ্ধ এবং বেসামরিক মানুষের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। থাইল্যান্ড এই অভিযোগের কোনো জবাব দেয়নি।

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম শুক্রবার (২৫ জুলাই) বলেন, থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতিতে “সম্মত” হয়েছে, তবে সীমান্ত থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য কিছু সময় প্রয়োজন।

ব্যাংকক জানিয়েছে, তারা আনোয়ারের প্রস্তাবের সঙ্গে “নীতিগতভাবে সম্পূর্ণ একমত”, অন্যদিকে নমপেন বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে, তবে থাইল্যান্ডকে তার অঙ্গীকারে অটল না থাকার জন্য দায়ী করেছে।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফেসবুকে লিখেছেন, “থাই পক্ষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে, কিন্তু এটি দুঃখজনক যে মাত্র এক ঘণ্টা পর তারা আমাদের জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে।”

প্রসঙ্গত, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত বিরোধ বহু পুরনো হলেও, গত মে মাসে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায় এবং কূটনৈতিক সম্পর্কে অবনতি ঘটে।
বর্তমানে চলমান সংঘর্ষ যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তাহলে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শর্তহীন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে কম্বোডিয়া

সর্বশেষ আপডেট ০১:০৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

থাইল্যান্ডের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে কম্বোডিয়া। দুই দেশ বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) থেকে সীমান্তে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন, এবং উভয় দেশে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সংঘর্ষ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় কম্বোডিয়া অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূত ছেয়া কেও এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা শর্তহীন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছি এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান কামনা করছি।”

তবে থাইল্যান্ড এখনো কম্বোডিয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে কম্বোডিয়া তাদের সীমান্তবর্তী আটটি জেলায় সামরিক আইন জারি করে।
থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই শুক্রবার সতর্ক করে বলেন, সংঘর্ষ “যুদ্ধের দিকেও গড়াতে পারে।” তিনি জানান, সংঘর্ষ বর্তমানে ১২টি সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং এতে ভারী অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে।

থাইল্যান্ডের দাবি, কম্বোডিয়ার বাহিনী বেসামরিক এলাকায় রকেট ছুড়েছে এবং আশপাশের সব গ্রাম খালি করে ফেলা হয়েছে। অপরদিকে, কম্বোডিয়ার অভিযোগ, থাই সেনারা সংঘর্ষে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করেছে, যা অধিকাংশ দেশেই নিষিদ্ধ এবং বেসামরিক মানুষের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। থাইল্যান্ড এই অভিযোগের কোনো জবাব দেয়নি।

এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম শুক্রবার (২৫ জুলাই) বলেন, থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতিতে “সম্মত” হয়েছে, তবে সীমান্ত থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য কিছু সময় প্রয়োজন।

ব্যাংকক জানিয়েছে, তারা আনোয়ারের প্রস্তাবের সঙ্গে “নীতিগতভাবে সম্পূর্ণ একমত”, অন্যদিকে নমপেন বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে, তবে থাইল্যান্ডকে তার অঙ্গীকারে অটল না থাকার জন্য দায়ী করেছে।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফেসবুকে লিখেছেন, “থাই পক্ষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে, কিন্তু এটি দুঃখজনক যে মাত্র এক ঘণ্টা পর তারা আমাদের জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে।”

প্রসঙ্গত, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত বিরোধ বহু পুরনো হলেও, গত মে মাসে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায় এবং কূটনৈতিক সম্পর্কে অবনতি ঘটে।
বর্তমানে চলমান সংঘর্ষ যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তাহলে তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি