ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শনিবার দেশে ফিরছেন শহিদুল আলম

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
  • / 101

শহিদুল আলম

ফিলিস্তিন সংহতি অভিযানে যোগ দিয়ে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হওয়ার পর মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশের খ্যাতনামা আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম শনিবার (১১ অক্টোবর) ভোরে দেশে ফিরছেন।

তিনি ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আবুল কালাম জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহিদুল আলম টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইসরায়েল থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আমানুর রহমান জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুল থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটটি শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে আসবে।

শহিদুল আলমের মুক্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে সহায়তার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ শহিদুল আলমকে আটক করার পরপরই বাংলাদেশের জর্ডান, মিসর ও তুরস্কে অবস্থিত দূতাবাসগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার মুক্তির জন্য তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়।

গাজায় ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা করা “গ্লোবাল সুমুদ মিডিয়া ফ্লোটিলা”-য় অংশ নিয়েছিলেন শহিদুল আলম। তিনি ছিলেন “কনশান্স” নামের জাহাজে। ২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আমরা অবরোধ ভাঙবো। আপনাদের সংহতির মূল্য হয়তো এখন পুরোটা বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু ফিলিস্তিন অবশ্যই মুক্ত হবে।”

তার এই সাহসী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ৪ অক্টোবর এক বিবৃতিতে বলেন, “শহিদুল আলম এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন একই সাহস, দৃঢ়তা ও অবিচল মানসিকতা নিয়ে—যে মানসিকতা তিনি ২০১৮ সালে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে ১০৭ দিন কারাবন্দি অবস্থায়ও দেখিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের অদম্য চেতনার প্রতীক।”

বিবৃতির শেষে ইউনূস আরও বলেন, “আমরা শহিদুল আলমের পাশে আছি, আমরা গাজার পাশে আছি—এখন এবং সর্বদা।”

একই দিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ফেসবুকে লিখেছিলেন, “গাজা অভিমুখী ফ্লোটিলায় শহিদুল আলমের অংশগ্রহণ শুধু সংহতির প্রকাশ নয়, এটি ন্যায়ের পক্ষে বিবেকের উচ্চারণ। বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরে তিনি প্রমাণ করেছেন, এই জাতি কখনো নিপীড়ন ও অবিচারের কাছে মাথা নত করেনি, করবেও না।”

৮ অক্টোবর শহিদুল আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় জানান, ইসরায়েলি বাহিনী তাকে সমুদ্রে আটক করেছে। তিনি বলেন, “আমি শহিদুল আলম, বাংলাদেশের একজন আলোকচিত্রী ও লেখক। আমাদের সমুদ্রে আটক করা হয়েছে এবং আমাকে ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী অপহরণ করেছে—যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সহযোগিতায় গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে।”

এরপর তুরস্কের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার তার মুক্তির উদ্যোগ নেয়। শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, শহিদুল আলম মুক্ত হয়েছেন এবং নিরাপদে দেশে ফেরার পথে আছেন।য়টি জানানো হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শনিবার দেশে ফিরছেন শহিদুল আলম

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

ফিলিস্তিন সংহতি অভিযানে যোগ দিয়ে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হওয়ার পর মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশের খ্যাতনামা আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম শনিবার (১১ অক্টোবর) ভোরে দেশে ফিরছেন।

তিনি ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আবুল কালাম জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহিদুল আলম টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইসরায়েল থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আমানুর রহমান জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুল থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটটি শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে আসবে।

শহিদুল আলমের মুক্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে সহায়তার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ শহিদুল আলমকে আটক করার পরপরই বাংলাদেশের জর্ডান, মিসর ও তুরস্কে অবস্থিত দূতাবাসগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার মুক্তির জন্য তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়।

গাজায় ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা করা “গ্লোবাল সুমুদ মিডিয়া ফ্লোটিলা”-য় অংশ নিয়েছিলেন শহিদুল আলম। তিনি ছিলেন “কনশান্স” নামের জাহাজে। ২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আমরা অবরোধ ভাঙবো। আপনাদের সংহতির মূল্য হয়তো এখন পুরোটা বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু ফিলিস্তিন অবশ্যই মুক্ত হবে।”

তার এই সাহসী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ৪ অক্টোবর এক বিবৃতিতে বলেন, “শহিদুল আলম এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন একই সাহস, দৃঢ়তা ও অবিচল মানসিকতা নিয়ে—যে মানসিকতা তিনি ২০১৮ সালে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে ১০৭ দিন কারাবন্দি অবস্থায়ও দেখিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের অদম্য চেতনার প্রতীক।”

বিবৃতির শেষে ইউনূস আরও বলেন, “আমরা শহিদুল আলমের পাশে আছি, আমরা গাজার পাশে আছি—এখন এবং সর্বদা।”

একই দিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ফেসবুকে লিখেছিলেন, “গাজা অভিমুখী ফ্লোটিলায় শহিদুল আলমের অংশগ্রহণ শুধু সংহতির প্রকাশ নয়, এটি ন্যায়ের পক্ষে বিবেকের উচ্চারণ। বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরে তিনি প্রমাণ করেছেন, এই জাতি কখনো নিপীড়ন ও অবিচারের কাছে মাথা নত করেনি, করবেও না।”

৮ অক্টোবর শহিদুল আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় জানান, ইসরায়েলি বাহিনী তাকে সমুদ্রে আটক করেছে। তিনি বলেন, “আমি শহিদুল আলম, বাংলাদেশের একজন আলোকচিত্রী ও লেখক। আমাদের সমুদ্রে আটক করা হয়েছে এবং আমাকে ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী অপহরণ করেছে—যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সহযোগিতায় গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে।”

এরপর তুরস্কের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার তার মুক্তির উদ্যোগ নেয়। শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, শহিদুল আলম মুক্ত হয়েছেন এবং নিরাপদে দেশে ফেরার পথে আছেন।য়টি জানানো হয়।