ঢাকা ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শনিবার থেকে মুরগি–ডিম উৎপাদন বন্ধের হুঁশিয়ারি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 102

শনিবার থেকে মুরগি–ডিম উৎপাদন বন্ধের হুঁশিয়ারি

কর্পোরেট সিন্ডিকেটের প্রভাব ও বাজারে অস্বচ্ছতা দূর করার দাবিতে সারা দেশে মুরগি ও ডিম উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে ধাপে ধাপে খামার ও উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিপিএ জানায়, পোলট্রি খাত দীর্ঘদিন ধরে কর্পোরেট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কারণে ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। এতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে, যার মধ্যে ৪০ শতাংশ নারী এবং ৬০ শতাংশ শিক্ষিত বেকার যুবক।

সংগঠনটির দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিন বছর ধরে ফিড উৎপাদনের মূল কাঁচামাল—সয়াবিন মিল, ভুট্টা, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিন প্রিমিক্স—এর দাম কমলেও দেশের বাজারে এর উল্টো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিপিএর অভিযোগ, দেশে কয়েকটি বড় কর্পোরেট কোম্পানি একচেটিয়াভাবে ফিডের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এর ফলে ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা প্রান্তিক খামারিদের টিকে থাকা কঠিন করে তুলেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিদিন লোকসানের মুখে পড়া প্রান্তিক খামারিরা এখন টিকে থাকার সংগ্রামে আছেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশের অন্যতম বৃহৎ কৃষিভিত্তিক এই খাত পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

পোলট্রি শিল্পের সংকট নিরসনে ও খামারিদের স্বার্থরক্ষায় বিপিএ সাত দফা দাবি পেশ করেছে। দাবিগুলো হলো—

১. কর্পোরেট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দাম সরকার নির্ধারণ করতে হবে।
২. কর্পোরেট প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও ন্যায্য বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৩. প্রান্তিক খামারিদের সংগঠনকে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৪. ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের বাজারে নিয়মিত অডিট করে প্রকাশযোগ্য প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।
৫. উৎপাদন খরচের সঙ্গে ১০ শতাংশ লাভ যোগ করে ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম নির্ধারণ করতে হবে।
৬. ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জামানতবিহীন ঋণ, প্রণোদনা ও ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ও কর্পোরেটপন্থী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিপিএ জানিয়েছে, সরকার যদি দ্রুত এই দাবিগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নেয়, তবে শনিবার থেকে দেশজুড়ে পোলট্রি উৎপাদন বন্ধ করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শনিবার থেকে মুরগি–ডিম উৎপাদন বন্ধের হুঁশিয়ারি

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

কর্পোরেট সিন্ডিকেটের প্রভাব ও বাজারে অস্বচ্ছতা দূর করার দাবিতে সারা দেশে মুরগি ও ডিম উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে ধাপে ধাপে খামার ও উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিপিএ জানায়, পোলট্রি খাত দীর্ঘদিন ধরে কর্পোরেট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কারণে ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। এতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে, যার মধ্যে ৪০ শতাংশ নারী এবং ৬০ শতাংশ শিক্ষিত বেকার যুবক।

সংগঠনটির দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিন বছর ধরে ফিড উৎপাদনের মূল কাঁচামাল—সয়াবিন মিল, ভুট্টা, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিন প্রিমিক্স—এর দাম কমলেও দেশের বাজারে এর উল্টো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিপিএর অভিযোগ, দেশে কয়েকটি বড় কর্পোরেট কোম্পানি একচেটিয়াভাবে ফিডের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এর ফলে ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা প্রান্তিক খামারিদের টিকে থাকা কঠিন করে তুলেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিদিন লোকসানের মুখে পড়া প্রান্তিক খামারিরা এখন টিকে থাকার সংগ্রামে আছেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশের অন্যতম বৃহৎ কৃষিভিত্তিক এই খাত পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

পোলট্রি শিল্পের সংকট নিরসনে ও খামারিদের স্বার্থরক্ষায় বিপিএ সাত দফা দাবি পেশ করেছে। দাবিগুলো হলো—

১. কর্পোরেট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দাম সরকার নির্ধারণ করতে হবে।
২. কর্পোরেট প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও ন্যায্য বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৩. প্রান্তিক খামারিদের সংগঠনকে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৪. ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের বাজারে নিয়মিত অডিট করে প্রকাশযোগ্য প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।
৫. উৎপাদন খরচের সঙ্গে ১০ শতাংশ লাভ যোগ করে ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম নির্ধারণ করতে হবে।
৬. ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জামানতবিহীন ঋণ, প্রণোদনা ও ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ও কর্পোরেটপন্থী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিপিএ জানিয়েছে, সরকার যদি দ্রুত এই দাবিগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নেয়, তবে শনিবার থেকে দেশজুড়ে পোলট্রি উৎপাদন বন্ধ করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।