ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লোকসানে কর দেওয়ার রীতিতে ব্যবসায়ীরা অসন্তোষ : এনবিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 10

লোকসানে কর দেওয়ার রীতিতে ব্যবসায়ীরা অসন্তোষ : এনবিআর

ব্যবসায় লাভ না হলেও কর দিতে বাধ্য হওয়ায় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ। নিয়মিত করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ এবং সেবার মান নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

সোমবার আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এনবিআরে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি বলেন, অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের মধ্যেও কর দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তারা নিজেদের প্রতি অবিচার হচ্ছে বলে মনে করছেন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন, তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কাজ অত্যন্ত কঠিন ও অজনপ্রিয়। এখানে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হয় না। সরকার চায় রাজস্ব আয় বাড়ুক, কারণ প্রতিবছর ঘাটতির কারণে বিদেশ থেকে ঋণ নিতে হয়। এই বাস্তবতা থেকেই কর আদায়ে চাপ তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, দেশে শুল্কহার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও ব্যবসায়ীরা মূলত অভিযোগ করেন সেবার মান নিয়ে। কাস্টমস ও কর অফিসে সময়ক্ষেপণ, জটিলতা এবং সমন্বয়ের অভাব ব্যবসায়িক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে এনবিআর নয়টি প্রতিষ্ঠানকে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) সনদ দেয়। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠান কাস্টমস কার্যক্রমে বিশেষ সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে ১৭ জন কর্মকর্তাকে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের সার্টিফিকেট অব মেরিট প্রদান করা হয়।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, আগে কাস্টমস ব্যবস্থার সাফল্য শুধু রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হতো। বর্তমানে বাণিজ্য সহজীকরণকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরে যাত্রীদের শতভাগ ব্যাগেজ স্ক্যানিং ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ জন্য নেওয়া চার্জ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে, যা পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানের ওপর করের চাপ কমানো, সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রক্রিয়া সহজীকরণ না করা হলে ব্যবসায়ীদের অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণ উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

লোকসানে কর দেওয়ার রীতিতে ব্যবসায়ীরা অসন্তোষ : এনবিআর

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ব্যবসায় লাভ না হলেও কর দিতে বাধ্য হওয়ায় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ। নিয়মিত করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ এবং সেবার মান নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

সোমবার আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এনবিআরে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি বলেন, অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের মধ্যেও কর দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তারা নিজেদের প্রতি অবিচার হচ্ছে বলে মনে করছেন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন, তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কাজ অত্যন্ত কঠিন ও অজনপ্রিয়। এখানে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হয় না। সরকার চায় রাজস্ব আয় বাড়ুক, কারণ প্রতিবছর ঘাটতির কারণে বিদেশ থেকে ঋণ নিতে হয়। এই বাস্তবতা থেকেই কর আদায়ে চাপ তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, দেশে শুল্কহার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও ব্যবসায়ীরা মূলত অভিযোগ করেন সেবার মান নিয়ে। কাস্টমস ও কর অফিসে সময়ক্ষেপণ, জটিলতা এবং সমন্বয়ের অভাব ব্যবসায়িক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে এনবিআর নয়টি প্রতিষ্ঠানকে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) সনদ দেয়। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠান কাস্টমস কার্যক্রমে বিশেষ সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে ১৭ জন কর্মকর্তাকে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের সার্টিফিকেট অব মেরিট প্রদান করা হয়।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, আগে কাস্টমস ব্যবস্থার সাফল্য শুধু রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হতো। বর্তমানে বাণিজ্য সহজীকরণকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরে যাত্রীদের শতভাগ ব্যাগেজ স্ক্যানিং ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ জন্য নেওয়া চার্জ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে, যা পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানের ওপর করের চাপ কমানো, সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রক্রিয়া সহজীকরণ না করা হলে ব্যবসায়ীদের অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণ উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়বে।