ঢাকা ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লেখক, গবেষক, রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমর আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 157

লেখক, গবেষক, রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমর। (ফাইল ফটো)

বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও বামপন্থী রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমর আর নেই। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

 

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম গণমাধ্যমকে জানান, সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই প্রবীণ রাজনীতিক।

 

বদরুদ্দীন উমরের জীবনের পথচলা ছিল বহুমাত্রিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে তিনি পেশাজীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। তার হাত ধরেই সেখানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি ছিলেন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার এক অনন্য মুখ।

 

১১ বছরের শিক্ষকতা শেষে তিনি রাজনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হন। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বামপন্থী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা হয়ে ওঠেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অবস্থান ছিল নীতি ও আদর্শে অবিচল।

প্রবীণ এ রাজনীতিক শুধু রাজনীতিতেই নয়, সাহিত্য ও গবেষণাতেও রেখেছেন অসামান্য অবদান। অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি, যেখানে সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনীতির নানা দিক গভীর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তার চিন্তাভাবনা নতুন প্রজন্মের বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

 

দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কারসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। নীতিতে অবিচল থেকে নিজের অবস্থানকে সুস্পষ্টভাবে জানান দিয়েছিলেন আজীবন।

 

বদরুদ্দীন উমরকে রাজধানীর জুরাইনে তার বাবা-মার কবরের পাশে দাফন করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

লেখক, গবেষক, রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমর আর নেই

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও বামপন্থী রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমর আর নেই। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

 

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম গণমাধ্যমকে জানান, সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই প্রবীণ রাজনীতিক।

 

বদরুদ্দীন উমরের জীবনের পথচলা ছিল বহুমাত্রিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে তিনি পেশাজীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। তার হাত ধরেই সেখানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি ছিলেন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার এক অনন্য মুখ।

 

১১ বছরের শিক্ষকতা শেষে তিনি রাজনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হন। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বামপন্থী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা হয়ে ওঠেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অবস্থান ছিল নীতি ও আদর্শে অবিচল।

প্রবীণ এ রাজনীতিক শুধু রাজনীতিতেই নয়, সাহিত্য ও গবেষণাতেও রেখেছেন অসামান্য অবদান। অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি, যেখানে সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনীতির নানা দিক গভীর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তার চিন্তাভাবনা নতুন প্রজন্মের বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

 

দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কারসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। নীতিতে অবিচল থেকে নিজের অবস্থানকে সুস্পষ্টভাবে জানান দিয়েছিলেন আজীবন।

 

বদরুদ্দীন উমরকে রাজধানীর জুরাইনে তার বাবা-মার কবরের পাশে দাফন করা হবে।