লিবিয়া থেকে দেশে ফিরছেন ৩০৯ বাংলাদেশি
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
- / 138
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী ৩০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে এবং দেশটির জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকারের সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
দূতাবাস জানিয়েছে, ফেরত আসা এসব অভিবাসী শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এটি লিবিয়া সরকারের সহযোগিতায় পরিচালিত দ্বিতীয় চার্টার ফ্লাইট।
প্রত্যাবাসনের আগে ত্রিপলির বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার অভিবাসীদের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়া ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “লিবিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করা নিবন্ধিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।”
তিনি জানান, লিবিয়া সরকারের সহযোগিতায় এর আগে ৯ অক্টোবর প্রথম দফায় ৩০৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় দফায় আরও ৩০৯ জন ফিরছেন।
রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান— দেশে ফিরে যেন তাঁরা মানবপাচার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখেন এবং অনিয়মিত পথে বিদেশ গমনের ঝুঁকি সম্পর্কে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করেন। তিনি বলেন, “প্রত্যেক নাগরিক দেশের সম্পদ। তাই ভবিষ্যতে কেউ যেন অবৈধ পথে বিদেশে না যায়; বরং বৈধ উপায়ে, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে দেশের মর্যাদা ও উন্নয়নে অবদান রাখুক।”
তিনি লিবিয়া সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস ও লিবিয়া সরকারের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এই নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, ফেরত আসা ব্যক্তিরা পূর্বে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার জন্য আবেদন করেছিলেন। তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র সংগ্রহসহ সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দূতাবাস সম্পন্ন করেছে।
একই প্রক্রিয়ায় আগামী ৩০ অক্টোবর মিসরাতা ও ত্রিপলি থেকে আরও তিন শতাধিক নিবন্ধিত বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস।































