ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লিটনদের ব্যাটিং বিপর্যয় নিয়ে সাবেকদের বিদ্রুপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • / 163

লিটনদের ব্যাটিং বিপর্যয় নিয়ে সাবেকদের বিদ্রুপ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল যে, তা এখন ক্রিকেট অঙ্গনে রীতিমতো কৌতুকের রূপ নিয়েছে। জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় ও কোচরা বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করছেন হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল লন্ডন থেকে বলেন, “শান্তর আউট দেখে গোসলে গেছি, এসে দেখি শেষ।” আবার হাবিবুল বাশার বলেন, “২ উইকেটে ১০০ দেখে বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলাম। যে রিসিভ করতে এসেছে হঠাৎ বলে ৮, আমি বলি ৮ নম্বর বাসায় যাব? সে বলে না না স্যার, ৮ উইকেট পড়ে গেছে!”—এই রকমই রসিকতায় মিশেছে হতাশার বাস্তবতা।

কিন্তু ব্যাটিং ধসের পেছনে যে গভীর সমস্যা আছে, সেটি তুলে ধরেছেন সাবেক প্রধান কোচ ও ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, “ছেলেরা প্রতিভাবান, কিন্তু এত বছর খেলেও যদি কেউ স্পিনারদের গুগলি বুঝতে না পারে, তাহলে সমস্যা অনেক গভীরে। কোচ এখানে কিছুই করতে পারবে না, এটা ব্যাটারদের নিজস্ব প্রস্তুতির ঘাটতি।”

তিনি আরো বলেন, “হাসারাঙ্গা প্রতি ম্যাচেই আমাদের বিপক্ষে ৩–৪ উইকেট নেয়। তার গুগলি রিড করা খুব কঠিন কিছু না। এটা তো মুরালিধরনের মতো রহস্যময় স্পিন না। কিন্তু তারপরও আমাদের ব্যাটাররা বল বুঝে খেলতে পারছে না।”

সাবেক নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর ভাষায়, “ছয় মাস ধরে ব্যাটিংয়ে কোনো ধারাবাহিকতা নেই। এই সমস্যার একমাত্র সমাধান টিম ম্যানেজমেন্টের ওয়ান-টু-ওয়ান কাজ। প্রত্যেক ব্যাটারের সাথে আলাদাভাবে কাজ করতে হবে।”

হাবিবুল বাশার ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে মনোযোগের অভাবকে দায়ী করেন। “হাসারাঙ্গা গুগলি মারে এটা সবাই জানে। কিন্তু কেউ তাকে রিড করতে পারেনি। মনে হয়েছে ব্যাটারদের মনোযোগ ছিল না। এমন ভুল তো জুনিয়র দলেও আশা করা যায় না।”

চম্পকা রমানায়েকে আরও সরাসরি বলেন, “বাংলাদেশের মতো দলই এমনভাবে ম্যাচ হারাতে পারে। একবার না, বহুবার এমনটা করেছে তারা। ১০০ রান হয়ে যাওয়ার পর ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারা—এটা ব্যাখ্যার বাইরে।”

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে লিটন দাস, শান্ত, মিরাজ, হৃদয়রা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় এক দশক ধরে খেলছেন। এত অভিজ্ঞতা থাকার পরও যদি বল রিড না করতে পারেন, তাহলে সেটা ব্যাটিং স্কিলের নয়, বরং মানসিক প্রস্তুতি ও পড়াশোনার অভাব।

প্রেমাদাসার মন্থর উইকেটে ব্যাটিং করতে হলে ঝুঁকিপূর্ণ শট নয়, বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে হবে। সাবেকরা মনে করেন, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ব্যাটারদের নিজেকে ঝালিয়ে নিতে হবে, অন্যথায় ব্যর্থতা বাংলাদেশের ব্যাটিংকে পেছনে টেনেই রাখবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

লিটনদের ব্যাটিং বিপর্যয় নিয়ে সাবেকদের বিদ্রুপ

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল যে, তা এখন ক্রিকেট অঙ্গনে রীতিমতো কৌতুকের রূপ নিয়েছে। জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় ও কোচরা বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করছেন হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল লন্ডন থেকে বলেন, “শান্তর আউট দেখে গোসলে গেছি, এসে দেখি শেষ।” আবার হাবিবুল বাশার বলেন, “২ উইকেটে ১০০ দেখে বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলাম। যে রিসিভ করতে এসেছে হঠাৎ বলে ৮, আমি বলি ৮ নম্বর বাসায় যাব? সে বলে না না স্যার, ৮ উইকেট পড়ে গেছে!”—এই রকমই রসিকতায় মিশেছে হতাশার বাস্তবতা।

কিন্তু ব্যাটিং ধসের পেছনে যে গভীর সমস্যা আছে, সেটি তুলে ধরেছেন সাবেক প্রধান কোচ ও ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, “ছেলেরা প্রতিভাবান, কিন্তু এত বছর খেলেও যদি কেউ স্পিনারদের গুগলি বুঝতে না পারে, তাহলে সমস্যা অনেক গভীরে। কোচ এখানে কিছুই করতে পারবে না, এটা ব্যাটারদের নিজস্ব প্রস্তুতির ঘাটতি।”

তিনি আরো বলেন, “হাসারাঙ্গা প্রতি ম্যাচেই আমাদের বিপক্ষে ৩–৪ উইকেট নেয়। তার গুগলি রিড করা খুব কঠিন কিছু না। এটা তো মুরালিধরনের মতো রহস্যময় স্পিন না। কিন্তু তারপরও আমাদের ব্যাটাররা বল বুঝে খেলতে পারছে না।”

সাবেক নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর ভাষায়, “ছয় মাস ধরে ব্যাটিংয়ে কোনো ধারাবাহিকতা নেই। এই সমস্যার একমাত্র সমাধান টিম ম্যানেজমেন্টের ওয়ান-টু-ওয়ান কাজ। প্রত্যেক ব্যাটারের সাথে আলাদাভাবে কাজ করতে হবে।”

হাবিবুল বাশার ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে মনোযোগের অভাবকে দায়ী করেন। “হাসারাঙ্গা গুগলি মারে এটা সবাই জানে। কিন্তু কেউ তাকে রিড করতে পারেনি। মনে হয়েছে ব্যাটারদের মনোযোগ ছিল না। এমন ভুল তো জুনিয়র দলেও আশা করা যায় না।”

চম্পকা রমানায়েকে আরও সরাসরি বলেন, “বাংলাদেশের মতো দলই এমনভাবে ম্যাচ হারাতে পারে। একবার না, বহুবার এমনটা করেছে তারা। ১০০ রান হয়ে যাওয়ার পর ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারা—এটা ব্যাখ্যার বাইরে।”

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে লিটন দাস, শান্ত, মিরাজ, হৃদয়রা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় এক দশক ধরে খেলছেন। এত অভিজ্ঞতা থাকার পরও যদি বল রিড না করতে পারেন, তাহলে সেটা ব্যাটিং স্কিলের নয়, বরং মানসিক প্রস্তুতি ও পড়াশোনার অভাব।

প্রেমাদাসার মন্থর উইকেটে ব্যাটিং করতে হলে ঝুঁকিপূর্ণ শট নয়, বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে হবে। সাবেকরা মনে করেন, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ব্যাটারদের নিজেকে ঝালিয়ে নিতে হবে, অন্যথায় ব্যর্থতা বাংলাদেশের ব্যাটিংকে পেছনে টেনেই রাখবে।