ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লাশ চাপা দেওয়ার পোস্টে তিশার সিল, নেটদুনিয়ায় ধিক্কার

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:০০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
  • / 780

লাশ চাপা দেওয়ার পোস্টে তিশার সিল, নেটদুনিয়ায় ধিক্কার

মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষিকা পূর্ণিমা দাসের ফেসবুকে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে যখন সমালোচনা হচ্ছে, তখনই তাঁর পোস্ট শেয়ার করলেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। অন্যদিকে পূর্ণিমা দাসের এই পোস্ট নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আরেক অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। তিশা পোস্ট শেয়ার করে সমালোচনার কবলে পড়েছেন।

স্কুলের আগুনে পুড়ে যাওয়া হায়দার আলী ভবনের শিক্ষিকা পূর্ণিমা দাস

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এই শিক্ষিকা নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ভুল তথ্য ছড়াবেন না।’ সেই সঙ্গে লাশ গুমের বিষয়টি গুজব উল্লেখ করে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। পূর্ণিমা দাসের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। বরং বিরক্তি প্রকাশ করেছেন তিনি।

অভিনেত্রীর মতে, পূর্ণিমা দাসের স্ট্যাটাসটি ঘটনার সঙ্গে মিলছে না। বরং সন্দেহের সৃষ্টি করছে।
পূর্ণিমা দাস তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “আমি মাইলস্টোনের হায়দার আলী ভবনের একজন শিক্ষিকা। আপনাদেরকে দুই হাত জোড় করে বলছি, ভুল তথ্য ছড়াবেন না।

মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষিকা পূর্ণিমা দাস
মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষিকা পূর্ণিমা দাস

আমিও আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছিলাম। আমার চেয়ে বেশি আপনারা ফেসবুকবাসী জানবেন না তাই না? স্কুল ছুটি হয় দুপুর ১টায়, আমি ঠিক তার এক থেকে দুই মিনিটে স্কাই সেকশনে ঢুকে দেখি ওখানে শুধু একটা বাচ্চা দাঁড়ানো। কেউ ছিল না, সবাই চলে গিয়েছিল। আপনারা জানেন না ছুটির সময় হলে বাচ্চারা তিন-চার মিনিট আগে থেকেই কিভাবে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাসায় যাওয়ার জন্য। এবং আমি চলে আসার পর অভিভাবক আসেনি বলে আবার স্কাই-এ কিছু বাচ্চা ঢুকেছিল, তাদেরকেও আমাদের আরেকজন টিচার ক্লাস থেকে নিয়ে অন্য সেকশনে বসায়।”

“এরপরেও আবার কয়েকজন (৫-৬ জন) ঢুকেছিল, তাদেরকেই আমরা হারিয়ে ফেলেছি। বা যারা করিডোরে, দোলনায় খেলছিলো বা সিঁড়িঘরে ছোটাছুটি করছিলো বা ওই মুহূর্তে ওই জায়গায় কাকতালীয়ভাবে ছিল। (এদের সংখ্যা অনিশ্চিত)।”

“এরপর আসেন #cloud—ওখানে বাচ্চার সংখ্যা (৮-১০) স্কাই এর চেয়ে বেশি ছিল। আমার ধারণা মাহরীন মিস, মাসুকা মিস ও মাহ্ফুজা মিস ওখান থেকেই বাচ্চা বের করার চেষ্টা করছিলেন। এবং তাদের বের করতে করতে নিজেরা ঝলসে যান। যাদের মধ্যে মাহরীন মিস এবং মাসুকা মিস-কে আমরা হারিয়ে ফেলেছি। মাহফুজা মিসের অবস্থা এখন গুরুতর, উনি লাইফ সাপোর্টে আছেন। উনার জন্য আপনারা দোয়া করবেন।”

“cloud-এর পাশের রুম #mayna, এখানে কিছু বাচ্চা ইনজিউরড; কেউ মারা যায়নি। mayna-এর পাশে #doyel, এই ক্লাসের একটা বাচ্চা আর নেই। doyel-এর পাশে #tuberose এবং #waterlily, এখানেও সবাই সেফ আছে। দ্বিতীয় তলার বাচ্চাদের ও ঘটনা একই। দুটি ক্লাসরুম ও একটি টিচার্স রুম পুড়েছে। ওখানেও ১৫-২০ জন ছিল।”

তিশা এই পোস্ট শেয়ার করে তীব্র সমালোচনার কবলে পড়েছেন। নেটিজেনরা তাকে কটু ভাষায় আক্রমণও করছেন। রশমা ধর নামের একজন লিখেছেন, “আপু আপনি আমার খুব প্রিয় একজন অভিনেত্রী, কিন্তু আজকে মন খারাপ করে দিলেন। কোনো ক্লাসেই যদি তেমন কোনো ক্ষতি না হয়ে থাকে, তবে যে ভিডিও ভাইরাল হল এক ক্লাসরুমের—ওগুলো কী? এখানে দেয়া যাচ্ছে না ভিডিও বা স্ক্রিনশট, নাইলে দেখাতাম। কাউকে ভয় না পেলেও সৃষ্টিকর্তাকে তো ভয় পান।”

সুমন নামের আরেকজন লিখেছেন, “ক্লাসে যদি বাচ্চারা না-ই থাকে, তাহলে মেহরীন ম্যাম কোন বাচ্চাদের ক্লাস থেকে বের করতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গিয়ে মৃত্যু বরণ করলেন?”

পূর্ণিমা দাসের স্ট্যাটাস নিয়ে বিরক্ত অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান
পূর্ণিমা দাসের স্ট্যাটাস নিয়ে বিরক্ত অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান

অন্যদিকে, অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান বলছেন, পূর্ণিমা দাসের স্ট্যাটাসটি তাকে খুব বিরক্ত করছে। কেন করছে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি লেখেন, “যেখানে স্কুলের হেড পিয়ন নিজেই বলেছে, স্কুল ছুটি হয় ১:৩০-এ, এমনকি অনেক স্টুডেন্টও একই কথা বলেছে।”

পূর্ণিমা দাসকে উদ্দেশ করে সাদিয়া আয়মান আরও লেখেন, “আপনি লিখেছেন ‘স্কাই’ সেকশনে একটা বাচ্চা দাঁড়িয়ে ছিল! সিরিয়াসলি? জুনায়েদ থেকে শুরু করে রাইসা মনিসহ অনেক বাচ্চা মারা গেছে, যারা স্কাই সেকশনে ছিল। ক্লাসের মধ্যে এতগুলো বই-খাতা, স্কুল ব্যাগ কোত্থেকে এলো? নিশ্চয়ই বলবেন না ‘স্টুডেন্টরা ক্লাসে বই-খাতা-ব্যাগ রেখে বাসায় চলে যায়, এটাই আপনাদের নিয়ম।’”

তিনি যোগ করেন, “ম্যাডাম, আপনার একার কথার সঙ্গে এতগুলো নিরীহ শিক্ষার্থীর লাশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কথার কোনো মিল নেই।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

লাশ চাপা দেওয়ার পোস্টে তিশার সিল, নেটদুনিয়ায় ধিক্কার

সর্বশেষ আপডেট ০২:০০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষিকা পূর্ণিমা দাসের ফেসবুকে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে যখন সমালোচনা হচ্ছে, তখনই তাঁর পোস্ট শেয়ার করলেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। অন্যদিকে পূর্ণিমা দাসের এই পোস্ট নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আরেক অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। তিশা পোস্ট শেয়ার করে সমালোচনার কবলে পড়েছেন।

স্কুলের আগুনে পুড়ে যাওয়া হায়দার আলী ভবনের শিক্ষিকা পূর্ণিমা দাস

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এই শিক্ষিকা নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ভুল তথ্য ছড়াবেন না।’ সেই সঙ্গে লাশ গুমের বিষয়টি গুজব উল্লেখ করে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। পূর্ণিমা দাসের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। বরং বিরক্তি প্রকাশ করেছেন তিনি।

অভিনেত্রীর মতে, পূর্ণিমা দাসের স্ট্যাটাসটি ঘটনার সঙ্গে মিলছে না। বরং সন্দেহের সৃষ্টি করছে।
পূর্ণিমা দাস তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “আমি মাইলস্টোনের হায়দার আলী ভবনের একজন শিক্ষিকা। আপনাদেরকে দুই হাত জোড় করে বলছি, ভুল তথ্য ছড়াবেন না।

মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষিকা পূর্ণিমা দাস
মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষিকা পূর্ণিমা দাস

আমিও আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছিলাম। আমার চেয়ে বেশি আপনারা ফেসবুকবাসী জানবেন না তাই না? স্কুল ছুটি হয় দুপুর ১টায়, আমি ঠিক তার এক থেকে দুই মিনিটে স্কাই সেকশনে ঢুকে দেখি ওখানে শুধু একটা বাচ্চা দাঁড়ানো। কেউ ছিল না, সবাই চলে গিয়েছিল। আপনারা জানেন না ছুটির সময় হলে বাচ্চারা তিন-চার মিনিট আগে থেকেই কিভাবে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাসায় যাওয়ার জন্য। এবং আমি চলে আসার পর অভিভাবক আসেনি বলে আবার স্কাই-এ কিছু বাচ্চা ঢুকেছিল, তাদেরকেও আমাদের আরেকজন টিচার ক্লাস থেকে নিয়ে অন্য সেকশনে বসায়।”

“এরপরেও আবার কয়েকজন (৫-৬ জন) ঢুকেছিল, তাদেরকেই আমরা হারিয়ে ফেলেছি। বা যারা করিডোরে, দোলনায় খেলছিলো বা সিঁড়িঘরে ছোটাছুটি করছিলো বা ওই মুহূর্তে ওই জায়গায় কাকতালীয়ভাবে ছিল। (এদের সংখ্যা অনিশ্চিত)।”

“এরপর আসেন #cloud—ওখানে বাচ্চার সংখ্যা (৮-১০) স্কাই এর চেয়ে বেশি ছিল। আমার ধারণা মাহরীন মিস, মাসুকা মিস ও মাহ্ফুজা মিস ওখান থেকেই বাচ্চা বের করার চেষ্টা করছিলেন। এবং তাদের বের করতে করতে নিজেরা ঝলসে যান। যাদের মধ্যে মাহরীন মিস এবং মাসুকা মিস-কে আমরা হারিয়ে ফেলেছি। মাহফুজা মিসের অবস্থা এখন গুরুতর, উনি লাইফ সাপোর্টে আছেন। উনার জন্য আপনারা দোয়া করবেন।”

“cloud-এর পাশের রুম #mayna, এখানে কিছু বাচ্চা ইনজিউরড; কেউ মারা যায়নি। mayna-এর পাশে #doyel, এই ক্লাসের একটা বাচ্চা আর নেই। doyel-এর পাশে #tuberose এবং #waterlily, এখানেও সবাই সেফ আছে। দ্বিতীয় তলার বাচ্চাদের ও ঘটনা একই। দুটি ক্লাসরুম ও একটি টিচার্স রুম পুড়েছে। ওখানেও ১৫-২০ জন ছিল।”

তিশা এই পোস্ট শেয়ার করে তীব্র সমালোচনার কবলে পড়েছেন। নেটিজেনরা তাকে কটু ভাষায় আক্রমণও করছেন। রশমা ধর নামের একজন লিখেছেন, “আপু আপনি আমার খুব প্রিয় একজন অভিনেত্রী, কিন্তু আজকে মন খারাপ করে দিলেন। কোনো ক্লাসেই যদি তেমন কোনো ক্ষতি না হয়ে থাকে, তবে যে ভিডিও ভাইরাল হল এক ক্লাসরুমের—ওগুলো কী? এখানে দেয়া যাচ্ছে না ভিডিও বা স্ক্রিনশট, নাইলে দেখাতাম। কাউকে ভয় না পেলেও সৃষ্টিকর্তাকে তো ভয় পান।”

সুমন নামের আরেকজন লিখেছেন, “ক্লাসে যদি বাচ্চারা না-ই থাকে, তাহলে মেহরীন ম্যাম কোন বাচ্চাদের ক্লাস থেকে বের করতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গিয়ে মৃত্যু বরণ করলেন?”

পূর্ণিমা দাসের স্ট্যাটাস নিয়ে বিরক্ত অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান
পূর্ণিমা দাসের স্ট্যাটাস নিয়ে বিরক্ত অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান

অন্যদিকে, অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান বলছেন, পূর্ণিমা দাসের স্ট্যাটাসটি তাকে খুব বিরক্ত করছে। কেন করছে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি লেখেন, “যেখানে স্কুলের হেড পিয়ন নিজেই বলেছে, স্কুল ছুটি হয় ১:৩০-এ, এমনকি অনেক স্টুডেন্টও একই কথা বলেছে।”

পূর্ণিমা দাসকে উদ্দেশ করে সাদিয়া আয়মান আরও লেখেন, “আপনি লিখেছেন ‘স্কাই’ সেকশনে একটা বাচ্চা দাঁড়িয়ে ছিল! সিরিয়াসলি? জুনায়েদ থেকে শুরু করে রাইসা মনিসহ অনেক বাচ্চা মারা গেছে, যারা স্কাই সেকশনে ছিল। ক্লাসের মধ্যে এতগুলো বই-খাতা, স্কুল ব্যাগ কোত্থেকে এলো? নিশ্চয়ই বলবেন না ‘স্টুডেন্টরা ক্লাসে বই-খাতা-ব্যাগ রেখে বাসায় চলে যায়, এটাই আপনাদের নিয়ম।’”

তিনি যোগ করেন, “ম্যাডাম, আপনার একার কথার সঙ্গে এতগুলো নিরীহ শিক্ষার্থীর লাশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কথার কোনো মিল নেই।”