‘লাব্বাইকে’ মুখর হওয়ার অপেক্ষায় আরাফাতের ময়দান
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
- / 677
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। মক্কার অদূরে মিনার ‘তাঁবুর শহরে’ অবস্থান করছেন লাখ লাখ হাজি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবুতে অবস্থান করে তারা ইবাদতে নিমগ্ন রয়েছেন। বুধবার রাত শেষে বৃহস্পতিবার (৫ জুন) তারা রওনা হবেন আরাফাতের ময়দানে—সেখানে অনুষ্ঠিত হবে হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা।
আরাফাতের ময়দানে হাজিদের উপস্থিতিই হজের মূল রুকন বা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এজন্য ৯ জিলহজ, অর্থাৎ আরাফার দিনকে হজের দিন বলা হয়। এদিন লাখ লাখ হাজি ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত করে তুলবেন পবিত্র প্রান্তর। পুরুষরা দুই খণ্ড সাদা কাপড়ে ইহরাম বেঁধে এবং নারীরা সাদামাটা পোশাকে ঐক্যবদ্ধ হবেন আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে।
এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৪ লাখ ৭০ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। স্থানীয়দের নিয়ে এই সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে হজে গেছেন ৮৬ হাজার ৯৫৮ জন।
আরাফার দিন মসজিদে নামিরায় হজের খুতবা দেবেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার শেখ সালেহ বিন হুমাইদ। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার পর খুতবা দেওয়া হবে এবং তা একযোগে ৩৪টি ভাষায় অনূদিত হবে।
৯ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থানের পর হাজিরা রওনা হবেন মুজদালিফার পথে। সেখানে রাত কাটিয়ে তারা ১০ জিলহজ মিনায় ফিরে আসবেন। এরপর বড় শয়তানকে পাথর মারা, কোরবানি দেওয়া, মাথা মুণ্ডন বা চুল কাটার পর মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ায় সাঈ করবেন।
পুনরায় মিনায় ফিরে হাজিরা ১১ ও ১২ জিলহজ তিনটি (বড়, মাঝারি, ছোট) শয়তানকে পাথর মারবেন। সবশেষে কাবা শরিফে বিদায়ি তাওয়াফের মাধ্যমে শেষ হবে হজের সম্পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা।

এদিকে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে তীব্র গরমের মধ্যে। বর্তমানে সৌদি আরবে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। তাই সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদ এড়িয়ে ক্যাম্পে থাকার পরামর্শ দিয়েছে হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। গত বছর অতিরিক্ত গরমে ১ হাজার ৩০১ জন হাজির মৃত্যু হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিলেন অনিবন্ধিত।
এ বছর যেন সেই দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ৫০ হাজার বর্গমিটার নতুন ছায়াযুক্ত স্থান যুক্ত করা হয়েছে, স্থাপন করা হয়েছে ৪০০টির বেশি শীতলীকরণ ইউনিট এবং মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার চিকিৎসাকর্মী। ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখের বেশি কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন নিরাপত্তা ও সেবায়।
এছাড়া হজ ব্যবস্থাপনায় এবার যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি। ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণব্যবস্থার মাধ্যমে জনসমাগমের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনিবন্ধিত হাজিদের ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে কড়া পদক্ষেপ—টেক্সট মেসেজ সতর্কতা, ড্রোন নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান চলছে।
এবারের হজ যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়, সেই প্রত্যাশায় মুখর পুরো আরাফাত প্রান্তর। “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” ধ্বনিতে প্রতিধ্বনিত হবে মুসলিম উম্মাহর আত্মসমর্পণ ও ভক্তির অমর বার্তা।





































