লস অ্যাঞ্জেলেসে কারফিউ জারি
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
- / 142
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর লস অ্যাঞ্জেলেসে কারফিউ জারি করা হয়েছে। শহরের মেয়র কারেন ব্যাস এ ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানকে কেন্দ্র করে শহরে চলমান বিক্ষোভ এবং সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে। এটি শহরের কেন্দ্রস্থলের প্রায় এক বর্গমাইল (প্রায় ২.৬ বর্গকিলোমিটার) এলাকাজুড়ে প্রযোজ্য হবে।
মেয়র কারেন ব্যাস জানিয়েছেন, বিক্ষোভের কারণে ইতোমধ্যেই অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু গত রাতেই ২৩টি দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আপনি যদি ডাউনটাউন এলএ-তে যান, দেখবেন সর্বত্রই গ্রাফিতি – যা সম্পত্তি ও ব্যবসায় বিশাল ক্ষতির কারণ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বার্তা স্পষ্ট: যদি আপনি ডাউনটাউন এলএ-তে বসবাস না করেন বা সেখানে কাজের প্রয়োজন না থাকে, তবে দয়া করে ওই এলাকা এড়িয়ে চলুন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কারফিউ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এই কারফিউ কয়েকদিন পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।”
মেয়র ব্যাস আরও বলেন, “ঘটনাগুলো শহরের একটি ছোট অংশে সীমাবদ্ধ থাকলেও গণমাধ্যমে যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে পুরো শহরজুড়ে অস্থিরতা চলছে – যা সঠিক নয়।”
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের প্রধান জিম ম্যাকডোনেল জানান, গত চার দিনে কমপক্ষে ৩৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু আজই প্রায় ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অবৈধ’ অভিবাসীদের ধরতে শুরু করা অভিযানের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভ চতুর্থ দিনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই বোস্টন, হিউস্টন এবং ফিলাডেলফিয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি শহরে অনুরূপ চিত্র দেখা যাচ্ছে।
এই আন্দোলন এখন আর শুধু ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিবাদে।
































