লক্ষীপুরে মাদ্রাসাছাত্র হত্যা: অধ্যক্ষের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
- / 2827
লক্ষ্মীপুরে হেফজ বিভাগের শিশুছাত্র সানিম হোসাইনকে (৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার দ্বিতীয় আসামি অধ্যক্ষ বশির আহমদসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘটনার ১৮ দিন পার হলেও পুলিশ বশির ও ফয়সালকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, যদিও তারা এজাহারভুক্ত আসামি।
রোববার (১ জুন) দুপুরে শহরের আল মুঈন ইসলামী একাডেমির সামনে প্রথমে মানববন্ধন করা হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে প্রেস ক্লাবের সামনে এসে দ্বিতীয়বার মানববন্ধনে মিলিত হয় নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। মানববন্ধন শেষে উত্তেজিত লোকজন মাদ্রাসার বাইরের অংশের কাঁচ ভাঙচুর করেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন মাওলানা নুরনবী, খালেদ মাহমুদ, ইকবাল মাহমুদ, নিহত সানিমের বাবা হুমায়ুন কবির মাতাব্বর ও মা জয়নব বিবি প্রমুখ।
মামলার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলা শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার ওই মাদ্রাসা থেকে সানিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে দুপুরে তার রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। নিহত সানিম রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী গ্রামের ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির মাতাব্বরের ছেলে এবং মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। সে ২২ পারা কোরআন মুখস্থ করেছিল।
ঘটনার রাতেই সানিমের বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। বশির ছাড়া অন্যরা হলেন—শিক্ষক হাফেজ মাহমুদুর রহমান মাহমুদ ও ফয়সাল। এর মধ্যে ঘটনার দিন মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে বশির ও ফয়সাল এখনো পলাতক।
বক্তারা বলেন, শিক্ষকরা দাবি করছেন, সানিম মাদ্রাসার তিনতলা থেকে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু তার মরদেহ পাওয়া গেছে নিচতলার একটি কক্ষে। তাকে নিচে নামানোর কোনো সিসিটিভি ফুটেজ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি। বক্তাদের দাবি, অভিযুক্তরা সানিমকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, হত্যাকারীদের কেন এখনো গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি করেন বক্তারা।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল মোন্নাফ জানান, ছাত্র হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। প্রধান আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মূল রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।


































