ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ শতাধিক বসতি ক্ষতিগ্রস্ত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৫৩ স্থানে ভূমিধস

নুরুল বশর, উখিয়া (কক্সবাজার)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
  • / 779

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৫৩ স্থানে ভূমিধস

কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫৩টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাটি ও দেয়াল ধসে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বজ্রপাতে আহত হয়েছেন ১১ জন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪ শতাধিক বসতি।

সোমবার (২ জুন) সন্ধ্যায় এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন ইউএনএইচসিআর সাব-অফিস কক্সবাজারের যোগাযোগ সহযোগী মোশারফ হোসেন।

বার্তায় বলা হয়েছে, সপ্তাহের শেষে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাত জনবহুল শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে আঘাত হেনেছে, যা হাজারো রোহিঙ্গা শরণার্থীর অস্থায়ী আশ্রয়স্থলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মাত্র দুই দিনের ভারী বর্ষণে ৩৩টি ক্যাম্পে ৫৩টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে বন্যা ও ঝড়ো হাওয়ায় ১৪০০টিরও বেশি আশ্রয়স্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেয়াল ধসে একজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বজ্রপাতে আহত হয়েছেন ১১ জন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

অন্তর্বর্তীকালীন ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেইসনি বলেন, “খাড়া ঢালু জায়গা, বন্যা এবং অস্থায়ী আশ্রয় মিলিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ো হাওয়া বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি ঘরগুলোকে আরও দুর্বল করে তুলেছে।”

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে ও কমিউনাল সেন্টারগুলোতে স্থানান্তরের জন্য শরণার্থী স্বেচ্ছাসেবকরা সহায়তা করছেন। কিন্তু আশ্রয়ের জন্য আমাদের আরও জায়গার প্রয়োজন। আক্রান্ত পরিবারগুলোকে অস্থায়ীভাবে কমিউনাল স্থাপনাগুলোতে রাখা হচ্ছে। তবে বর্ষার আগেই শরণার্থী ক্যাম্পে পর্যাপ্ত আশ্রয়স্থলের অভাব ছিল, বিশেষ করে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে সম্প্রতি হাজার হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই আগে থেকে আসা আত্মীয়দের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন, যারা নিজেরাই ঘর শুকনো রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

“বর্ষা মৌসুম মে মাসের শেষ থেকে আগস্ট পর্যন্ত চলে। এই সময় বিপদের ঝুঁকি কমাতে মানবিক সংস্থাগুলো আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেমন ত্রিপল, দড়ি, ঘুমানোর ম্যাট, পানিশোধন ট্যাবলেট ও জেরিক্যানের মতো ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা। প্রাথমিক চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা বিপদের সময় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।”

কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস বলেন, বড় ধরনের অর্থসংকট প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশেপাশের বাংলাদেশি জনগণ একইভাবে এমন এলাকায় বাস করছেন যেখানে বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সবসময়ই রয়েছে। এসব দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি জীবনরক্ষাকারী।

তিনি বলেন, “সাধারণত মে মাসের আগেই বর্ষা প্রস্তুতি শুরু হয়, কিন্তু এ বছর অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া যায়নি। ২০২৫ সালে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো প্রায় ১৪.৮ লাখ মানুষকে সহায়তার লক্ষ্যে ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল চেয়েছে, যার মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশেপাশের বাংলাদেশি জনগণ অন্তর্ভুক্ত।”

লুইস আরও বলেন, “বছরের মাঝামাঝি চলে এলেও যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার মাত্র ২০ শতাংশ অর্থায়ন হয়েছে। আমরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করব, তবে এই কঠিন সময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবহেলা করা সম্ভব নয়। আমরা জরুরিভাবে দাতাদের আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন এই দুর্দশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ায়।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

১৪ শতাধিক বসতি ক্ষতিগ্রস্ত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৫৩ স্থানে ভূমিধস

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫৩টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাটি ও দেয়াল ধসে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বজ্রপাতে আহত হয়েছেন ১১ জন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪ শতাধিক বসতি।

সোমবার (২ জুন) সন্ধ্যায় এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন ইউএনএইচসিআর সাব-অফিস কক্সবাজারের যোগাযোগ সহযোগী মোশারফ হোসেন।

বার্তায় বলা হয়েছে, সপ্তাহের শেষে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাত জনবহুল শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে আঘাত হেনেছে, যা হাজারো রোহিঙ্গা শরণার্থীর অস্থায়ী আশ্রয়স্থলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মাত্র দুই দিনের ভারী বর্ষণে ৩৩টি ক্যাম্পে ৫৩টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে বন্যা ও ঝড়ো হাওয়ায় ১৪০০টিরও বেশি আশ্রয়স্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেয়াল ধসে একজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বজ্রপাতে আহত হয়েছেন ১১ জন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

অন্তর্বর্তীকালীন ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেইসনি বলেন, “খাড়া ঢালু জায়গা, বন্যা এবং অস্থায়ী আশ্রয় মিলিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ো হাওয়া বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি ঘরগুলোকে আরও দুর্বল করে তুলেছে।”

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে ও কমিউনাল সেন্টারগুলোতে স্থানান্তরের জন্য শরণার্থী স্বেচ্ছাসেবকরা সহায়তা করছেন। কিন্তু আশ্রয়ের জন্য আমাদের আরও জায়গার প্রয়োজন। আক্রান্ত পরিবারগুলোকে অস্থায়ীভাবে কমিউনাল স্থাপনাগুলোতে রাখা হচ্ছে। তবে বর্ষার আগেই শরণার্থী ক্যাম্পে পর্যাপ্ত আশ্রয়স্থলের অভাব ছিল, বিশেষ করে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে সম্প্রতি হাজার হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই আগে থেকে আসা আত্মীয়দের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন, যারা নিজেরাই ঘর শুকনো রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

“বর্ষা মৌসুম মে মাসের শেষ থেকে আগস্ট পর্যন্ত চলে। এই সময় বিপদের ঝুঁকি কমাতে মানবিক সংস্থাগুলো আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেমন ত্রিপল, দড়ি, ঘুমানোর ম্যাট, পানিশোধন ট্যাবলেট ও জেরিক্যানের মতো ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা। প্রাথমিক চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা বিপদের সময় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।”

কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস বলেন, বড় ধরনের অর্থসংকট প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশেপাশের বাংলাদেশি জনগণ একইভাবে এমন এলাকায় বাস করছেন যেখানে বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সবসময়ই রয়েছে। এসব দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি জীবনরক্ষাকারী।

তিনি বলেন, “সাধারণত মে মাসের আগেই বর্ষা প্রস্তুতি শুরু হয়, কিন্তু এ বছর অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া যায়নি। ২০২৫ সালে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো প্রায় ১৪.৮ লাখ মানুষকে সহায়তার লক্ষ্যে ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল চেয়েছে, যার মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশেপাশের বাংলাদেশি জনগণ অন্তর্ভুক্ত।”

লুইস আরও বলেন, “বছরের মাঝামাঝি চলে এলেও যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার মাত্র ২০ শতাংশ অর্থায়ন হয়েছে। আমরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করব, তবে এই কঠিন সময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবহেলা করা সম্ভব নয়। আমরা জরুরিভাবে দাতাদের আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন এই দুর্দশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ায়।”