ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিক্ষোভে উত্তাল শিক্ষক সমাজ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২৫০ স্থানীয় শিক্ষককে হঠাৎ চাকরিচ্যুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
  • / 321

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২৫০ স্থানীয় শিক্ষককে হঠাৎ চাকরিচ্যুতি

উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে এনজিও পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে হঠাৎ করে ১,২৫০ জন স্থানীয় শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার (৩১ মে) দুপুরে উখিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা অংশ নেন এবং নিজেদের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

বিক্ষোভকারী শিক্ষকরা জানান, ব্র্যাক, কোডেক, ফ্রেন্ডশিপ, মুক্তি, কোস্ট ফাউন্ডেশন ও জেসিএফসহ একাধিক এনজিও সংস্থা রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য পরিচালিত স্কুলে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা—দুই সম্প্রদায়ের শিক্ষকদের নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি ‘অর্থ সংকট’ দেখিয়ে শুধুমাত্র স্থানীয় ১,২৫০ জন শিক্ষককে ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে রোহিঙ্গা শিক্ষকরা বহাল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আরও প্রায় ৩ হাজার শিক্ষককে ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতিও চলছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক মোহাম্মদ শামীম হোসেন বলেন, “রোহিঙ্গা শিক্ষকরা যদি কাজ করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না? অথচ শুধু আমাদেরই চাকরিচ্যুত করা হলো। এ বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব না।”

বিক্ষোভকারীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানান। দাবি মানা না হলে তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওগুলোর যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়াসহ উখিয়া ও টেকনাফে এনজিও কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরোয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, “যদি প্রকৃতই তহবিল সংকট থাকে, তাহলে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে শুধু রোহিঙ্গাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালানো যৌক্তিক নয়। বরং পুরো শিক্ষা প্রকল্পই বন্ধ করে দেওয়া উচিত।”

এ ঘটনায় জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (RRRC) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, “অর্থ সংকটের কারণে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আগামীকাল রবিবার (১ জুন) এ বিষয়ে ইউনিসেফের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিক্ষোভে উত্তাল শিক্ষক সমাজ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২৫০ স্থানীয় শিক্ষককে হঠাৎ চাকরিচ্যুতি

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে এনজিও পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে হঠাৎ করে ১,২৫০ জন স্থানীয় শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার (৩১ মে) দুপুরে উখিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা অংশ নেন এবং নিজেদের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

বিক্ষোভকারী শিক্ষকরা জানান, ব্র্যাক, কোডেক, ফ্রেন্ডশিপ, মুক্তি, কোস্ট ফাউন্ডেশন ও জেসিএফসহ একাধিক এনজিও সংস্থা রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য পরিচালিত স্কুলে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা—দুই সম্প্রদায়ের শিক্ষকদের নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি ‘অর্থ সংকট’ দেখিয়ে শুধুমাত্র স্থানীয় ১,২৫০ জন শিক্ষককে ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে রোহিঙ্গা শিক্ষকরা বহাল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আরও প্রায় ৩ হাজার শিক্ষককে ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতিও চলছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক মোহাম্মদ শামীম হোসেন বলেন, “রোহিঙ্গা শিক্ষকরা যদি কাজ করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না? অথচ শুধু আমাদেরই চাকরিচ্যুত করা হলো। এ বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব না।”

বিক্ষোভকারীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানান। দাবি মানা না হলে তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওগুলোর যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়াসহ উখিয়া ও টেকনাফে এনজিও কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরোয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, “যদি প্রকৃতই তহবিল সংকট থাকে, তাহলে স্থানীয়দের বাদ দিয়ে শুধু রোহিঙ্গাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালানো যৌক্তিক নয়। বরং পুরো শিক্ষা প্রকল্পই বন্ধ করে দেওয়া উচিত।”

এ ঘটনায় জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (RRRC) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, “অর্থ সংকটের কারণে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আগামীকাল রবিবার (১ জুন) এ বিষয়ে ইউনিসেফের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।”