ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ১১ দেশের প্রতিশ্রুতি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / 73

রোহিঙ্গা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আট বছর পূর্তিতে পশ্চিমা বিশ্বের ১১টি দেশ বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার জানিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট জটিল হওয়ায় মিয়ানমারের পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের চলমান মানবিক সংকটের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে সরকারকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে দেশগুলো।

বিশেষ করে আগামী মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একসঙ্গে কাজ করবে।

সোমবার সকালে ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাস তাদের এক্স হ্যান্ডেল এবং ফেসবুক পেজে যৌথ বিবৃতিটি প্রকাশ করে।

দেশগুলো হলো; অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড।

বিবৃতিতে ১১টি দেশ বলেছে, “আট বছর পেরোনোর পর আমরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সেই কর্মকাণ্ড স্মরণ করছি, যার ফলে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনো নতুন করে লোকজন আসছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা রোহিঙ্গাদের দৃঢ়তা ও সহনশীলতাকে সম্মান জানাই, যারা দীর্ঘদিন ধরে কঠিন বাস্তবতা ও বাস্তুচ্যুতি সহ্য করে চলেছেন। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যের অবনতিশীল নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতির মধ্যেও তারা দৃঢ়তা দেখাচ্ছেন।”

দেশগুলো বলেছে, “আমরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তারা রোহিঙ্গাদের, বিশেষ করে নতুন আসা লোকজনকেও আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছেন এবং জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছেন।”

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও প্রত্যাবাসনের সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সীমান্ত পেরিয়ে বাস্তুচ্যুতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। অনেক রোহিঙ্গা রাখাইনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় আছে। মিয়ানমারে এখনো এমন পরিবেশ তৈরি হয়নি, যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও স্থায়ীভাবে ফিরে যেতে পারে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই শর্ত পূরণ করতে হলে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো সমাধান করতে হবে, যার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল মিয়ানমার অপরিহার্য। তাই আমরা স্বীকার করছি, এখনই প্রত্যাবাসনের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আমরা সব পক্ষকে দ্রুত এমন একটি পরিবেশ তৈরির জন্য আহ্বান জানাই, যা প্রত্যাবাসনকে সহায়ক করে তুলবে।”

তারা আরও বলেছে, “আমরা মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর তীব্র নিন্দা জানাই। সহিংসতা বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের অবাধ সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিও পুনর্ব্যক্ত করছি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন জানাই।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আরও স্থায়ী সমাধানের পক্ষে। বিশেষ করে যখন রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তার তহবিল কমে আসছে, তখন তাদের ভবিষ্যৎ প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। আমরা কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকেও সহায়তা দিয়ে যাব, যারা উদারভাবে শরণার্থীদের আতিথেয়তা জানাচ্ছেন।”

শেষে ১১ দেশ বলেছে, “আমরা রোহিঙ্গাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরছি, যাতে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতাবান হতে পারে এবং বাংলাদেশে অবস্থানকালে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও গঠনমূলক জীবনযাপন করতে পারে। আ

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ১১ দেশের প্রতিশ্রুতি

সর্বশেষ আপডেট ১০:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আট বছর পূর্তিতে পশ্চিমা বিশ্বের ১১টি দেশ বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার জানিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট জটিল হওয়ায় মিয়ানমারের পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের চলমান মানবিক সংকটের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে সরকারকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে দেশগুলো।

বিশেষ করে আগামী মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একসঙ্গে কাজ করবে।

সোমবার সকালে ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাস তাদের এক্স হ্যান্ডেল এবং ফেসবুক পেজে যৌথ বিবৃতিটি প্রকাশ করে।

দেশগুলো হলো; অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড।

বিবৃতিতে ১১টি দেশ বলেছে, “আট বছর পেরোনোর পর আমরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সেই কর্মকাণ্ড স্মরণ করছি, যার ফলে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনো নতুন করে লোকজন আসছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা রোহিঙ্গাদের দৃঢ়তা ও সহনশীলতাকে সম্মান জানাই, যারা দীর্ঘদিন ধরে কঠিন বাস্তবতা ও বাস্তুচ্যুতি সহ্য করে চলেছেন। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যের অবনতিশীল নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতির মধ্যেও তারা দৃঢ়তা দেখাচ্ছেন।”

দেশগুলো বলেছে, “আমরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তারা রোহিঙ্গাদের, বিশেষ করে নতুন আসা লোকজনকেও আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছেন এবং জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছেন।”

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও প্রত্যাবাসনের সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সীমান্ত পেরিয়ে বাস্তুচ্যুতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। অনেক রোহিঙ্গা রাখাইনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় আছে। মিয়ানমারে এখনো এমন পরিবেশ তৈরি হয়নি, যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও স্থায়ীভাবে ফিরে যেতে পারে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই শর্ত পূরণ করতে হলে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো সমাধান করতে হবে, যার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল মিয়ানমার অপরিহার্য। তাই আমরা স্বীকার করছি, এখনই প্রত্যাবাসনের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আমরা সব পক্ষকে দ্রুত এমন একটি পরিবেশ তৈরির জন্য আহ্বান জানাই, যা প্রত্যাবাসনকে সহায়ক করে তুলবে।”

তারা আরও বলেছে, “আমরা মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর তীব্র নিন্দা জানাই। সহিংসতা বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের অবাধ সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিও পুনর্ব্যক্ত করছি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন জানাই।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আরও স্থায়ী সমাধানের পক্ষে। বিশেষ করে যখন রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তার তহবিল কমে আসছে, তখন তাদের ভবিষ্যৎ প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। আমরা কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকেও সহায়তা দিয়ে যাব, যারা উদারভাবে শরণার্থীদের আতিথেয়তা জানাচ্ছেন।”

শেষে ১১ দেশ বলেছে, “আমরা রোহিঙ্গাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরছি, যাতে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতাবান হতে পারে এবং বাংলাদেশে অবস্থানকালে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও গঠনমূলক জীবনযাপন করতে পারে। আ