রোহিঙ্গাদের নতুন শেল্টার নির্মাণে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫
- / 159
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চলাকালে উখিয়ায় নতুনভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী মহল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে বাধাগ্রস্ত করতে সচেষ্ট এবং তারা কৌশলে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করাচ্ছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (RRRC) সূত্র জানায়, সম্প্রতি উখিয়ার ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘সাওয়াব’ নামের একটি এনজিও লক্ষাধিক নতুন রোহিঙ্গার জন্য আশ্রয়ণ ঘর নির্মাণ করছে। বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের জলাধার ভরাট করে প্রায় ১২২টি শেড নির্মাণ করা হয়েছে। এ নতুন রোহিঙ্গা পল্লীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘আমেনা ভিলেজ’।
স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, এই এলাকায় রোহিঙ্গা আগমনের ফলে তারা জমি, বাগান, জলাধারসহ জীবিকার প্রধান উৎস হারিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু সরকার বা সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলো থেকে তাদের জন্য কোনো কার্যকর সহায়তা মেলেনি।
সামাজিক বনায়নের অংশীদার আবছার উদ্দিন বলেন, “গত আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নতুন করে ঘর নির্মাণ হলে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ আরও পিছিয়ে যাবে। আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
সূত্র জানায়, সম্প্রতি কৌশলে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা পুনরায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে এবং তারা টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিচ্ছে। তবে এদের অনেকেই সরকারের রেজিস্ট্রারে তালিকাভুক্ত না হলেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়ে ত্রাণ পাচ্ছে।
এ অবস্থায় ‘সাওয়াব’ এনজিও প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দেড়শ পরিবারের জন্য নতুন শেড নির্মাণ করছে, যা সামাজিক বনায়নের হাজারো গাছ কেটে ও জলধারা ভরাট করে তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত উপকারভোগীরা শরণার্থী কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর রহমান বলেন, “বিষয়টি বন বিভাগ অবগত। কিন্তু যেহেতু জায়গাটি কাটাতারের ভেতরে পড়ে, বন বিভাগের এখতিয়ার সীমিত।”

অন্যদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “নতুন রোহিঙ্গাদের জন্য শেড নির্মাণ হচ্ছে এবং এনজিও ‘সাওয়াব’ নিয়ম মেনেই কাজ করছে। তবে যদি গাছ কাটা বা জলধারা ভরাট প্রমাণিত হয়, তাহলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন বলেন, “প্রথমে আমরা মানবতার দিক থেকে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করেছি। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি, তা স্থানীয়দের অধিকার ও জীবনধারাকে বিপন্ন করছে। এটি একটি ষড়যন্ত্রের অংশ, যার মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভাসানচরের খালি পড়ে থাকা শেডগুলো ব্যবহার না করে নতুন শেড নির্মাণ কেন প্রয়োজন হলো? এটি প্রশ্নের জন্ম দেয়।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কিছু এনজিও রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করছে। তারা দাবি তুলেছেন, স্থানীয় জনগণের অধিকার রক্ষায় এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারকে আরও কঠোর ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।





































