রোকেয়ার ‘সুলতানা’স ড্রিম’ শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 79
নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘সুলতানা’স ড্রিম’ অবলম্বনে স্প্যানিশ সিনেমা ‘সুলতানা’স ড্রিম’ শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্সে । এক বিজ্ঞপ্তিতে স্টার সিনেপ্লেক্স জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে তাদের ছয়টি শাখায় এই সিনেমার ১৮টি শো চলবে।
১৯০৫ সালে ইন্ডিয়ান লেডিজ ম্যাগাজিনে প্রথম ইংরেজিতে প্রকাশিত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘সুলতানা’স ড্রিম’ ।
‘সুলতানা’স ড্রিম’ উপন্যাসের মাধ্যমে নারীর শ্রেষ্ঠত্ব, সম্ভাবনা, নেপুণ্য ও কল্যাণবোধের মহত্ত্ব প্রমাণিত হয়েছিল।
তিনি ‘সুলতানা’স ড্রিম’ এর প্রথম অনুচ্ছেদে লিখেছিলেন-
‘One evening I was lounging in an easy chair in my bed-room and Thinking Lagily of the condition of Indian womanhood. I am not sure whether I doged off or not. But, as far as I remember I was wide awake. I saw the moonlit sky sparking with thousands of diamondlike stars, very distinctly’.
(একদিন সন্ধ্যায় আমি শোবার ঘরের আরাম কেদারায় বসে ভারতীয় নারীদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে ভাবছিলাম। ঠিক বলতে পারি না আমি তন্দ্রাভিভূত হয়েছিলাম কিনা। কিন্তু যতদূর মনে পড়ে, আমার বিশ্বাস আমি জেগেই ছিলাম। আমি দেখলাম আকাশে চাঁদের আলোয় হাজার হাজার তারা হীরার মতো জ্বলজ্বল করছে। যা ছিল খুবই স্পষ্ট।)
রোকেয়ার সেই উপন্যাসের কাহিনী পর্দায় তুলে এনেছেন স্প্যানিশ নির্মাতা ইসাবেল হারগুয়েরা। স্প্যানিশ ভাষায় ৮৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের নাম ‘এল সুয়েনো দে লা সুলতানা’, ইংরেজিতে ‘সুলতানা’স ড্রিম’।
২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্পেনের ‘সান সেবাস্তিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভালে’ সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়।
এরপর ইউরোপিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, গোয়া ফেস্টিভ্যাল, ফিল্মফেস্ট হামবুর্গ, লিডস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে সিনেমাটি। চলচ্চিত্রটি বিভিন্ন ফেস্টিভ্যাল অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখার সঙ্গে কীভাবে পরিচয় হল, সে কথা এর আগে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন নির্মাতা ইসাবেল হারগুয়েরা। তিনি ২০১২ সালে দিল্লি গিয়েছিলেন । একদিন প্রচণ্ড বৃষ্টিতে আটকা পড়েছিলেন শহরের একটি আর্ট গ্যালারিতে। সেখানেই খুঁজে পান ‘সুলতানাস ড্রিম’ বইটি।
ইসাবেল হারগুয়েরা বলেছিলেন, “এত বছর আগে লেখা একটি বই, যেখানে নারীদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে অন্য এক পৃথিবীর। বইটি পড়ে আমার বিস্ময়ের শেষ ছিল না। একেবারে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার মত। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, এটা নিয়ে আমি সিনেমা বানাব।
“কিছুদিন পর সিদ্ধান্ত নিই যে ফিচার ফিল্ম এবং অ্যানিমেশন হবে। কিন্তু অ্যানিমেশন ফিল্ম করতে দক্ষ লোকবলের প্রয়োজন হয়, প্রচুর অর্থ লাগে। আমার মনে হয় কাজটি দুর্দান্ত হয়েছে।”
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সদস্য মফিদুল হক বলেন, ইসাবেল হারগুয়েরা একজন আর্টিস্ট এবং ফিল্মমেকার। তিনি ভারতের আহমেদাবাদে কিছুদিন কাজ করেছেন। এখানে কাজ করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে সুলতানা’স ড্রিম বইটি তার হাতে আসে।
বইটি পাওয়া প্রসঙ্গে সিনেমায় তিনি তার ব্যক্তিগত অভিমতও তুলে ধরেছেন। বইয়ের মূল ভাব শুধু এই উপমহাদেশ, বাংলাদেশ বা ভারতের নারীদের জীবনযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপের নারীরাও নানারকম সমস্যার মুখোমুখি হন। পুরো বিশ্বের নারীদের সমস্যার কথা তিনি এই চলচ্চিত্রে তুলে ধরেছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘সুলতানা’স ড্রিম’ ২০২৪ সালে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড হিসেবে এশিয়া প্যাসিফিক রেজিস্টার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সেজন্য একটি প্রস্তাবনা দিতে হয়। জাদুঘরে ‘সুলতানা’স ড্রিম’ প্রথম গ্রন্থটি বের হয়েছিল ১৯০৮ সালে। এর কপি এবং রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের চিঠিপত্র ও অন্যান্য তথ্য জাদুঘরে সংগৃহীত রয়েছে। এরি প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর সিদ্ধান্ত নেয় এই প্রস্তাবটি ‘সুলতানা’স ড্রিম’ উপন্যাসকে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড প্রদানের জন্য ইউনেস্কোতে একটি প্রস্তাব দেওয়া যায়। বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিশনার ইউনেস্কোর মারফতে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়। ইউনেস্কোর এশিয়া প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলনে ২০২৪ সালের মে মাসে এটি গৃহীত হয়। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নিজ যোগ্যতায় এই স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। কারণ তিনি ১২০ বছর আগে ইংরেজিতে এই উপন্যাসটি লিখেছিলেন। তা সকলকে নানাভাবে আলোড়িত করে। ইউনেস্কোর এশিয়া প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলনেও এরিই প্রতিফলন ঘটেছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা আনন্দিত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘সুলতানা’স ড্রিম’ উপন্যাস নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নিমার্ণ হয়েছে। আধুনিক চলচ্চিত্র মাধ্যমে একটি পুরনো উপন্যাস নিয়ে অ্যানিমেশন ফিল্ম তৈরি হয়েছে। সেটি বাংলাদেশে প্রদর্শিত হবে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক, বিশেষ করে যারা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মেয়ে এবং নারীরা এই চলচ্চিত্রটি দেখবেন। এতে তাদের বড় রকমের অভিজ্ঞতা হবে। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন বাংলাদেশের কন্যা ।
তিনি রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ গ্রামের এক প্রান্ত থেকে উঠে এসেছিলেন। এতো বছর পরেও তাঁর উপন্যাস ভিত্তিক এই চলচ্চিত্র সাম্প্রতিক চিন্তাধারার মানুষ এবং ইউরোপিয়ানদেরকেও আলোড়িত করবে আশা করছি। বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরাও স্টার সিনেপ্লেক্সে ভিড় জমাবে ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্র ‘ সুলতানা’স ড্রিম’ দেখার জন্য । ছবিটি দেখে তারা তাদের প্রতিক্রিয়া নানাভাবে প্রকাশ করবে।
কলকাতার সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের লেখা একটি গানও রয়েছে এই চলচ্চিত্রে। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন তাজদির জুনায়েদ। গেয়েছেন দীপান্বিতা আচার্য।
চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে স্পেন ও জার্মানির পাঁচটি প্রতিষ্ঠান।



































