এলোমেলো ফ্লাইট সিডিউল
রেলের পথে বিমান!
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
- / 411
বাংলাদেশ রেলপরিবহন ব্যবস্থার পথেই হাঁটেতে শুরু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সংস্থাটিতে উড়োজাহাজ সংকট দিনকে দিন ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। আর এ কারনে এলোমেলো ফ্লাইট সিডিউলের ঘটনা যেন এখন নিত্যদিনে পরিনত হয়েছে।
আজ বুধবারও (১৩ আগস্ট) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি। উড়োজাহাজ সংকটের কারণ দেখিয়ে কয়েক ঘণ্টা থেকে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হয়েছে এসব ফ্লাইট। যা যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে মদিনাগামী ফ্লাইট বিজি-২৩৭ আজ চার ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়বে। ফ্লাইটটির মূল নির্ধারিত সময় ছিল বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা (১০:০০ ইউটিসি), কিন্তু নতুন সময় অনুযায়ী এটি রাত ৮টায় (১৪:০০ ইউটিসি) ছাড়বে।
ঢাকা থেকে জেদ্দাগামী ফ্লাইট বিজি-১৩৫ আধা ঘণ্টা দেরিতে ছাড়বে। মূল নির্ধারিত সময় ছিল বিকেল ৫টা (১১:০০ ইউটিসি), যা পরিবর্তন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে (১১:৩০ ইউটিসি)।
ঢাকা থেকে কুয়েত গামী ফ্লাইট বিজি-৩৪৩-এরও বিলম্ব হয়েছে। ফ্লাইটটি মূলত ছাড়ার কথা ছিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট, যা পরিবর্তন হয়ে নতুন সময় নির্ধারিত হয়েছে রাত ৯টা (১৫:০০ ইউটিসি)।
এছাড়া, ঢাকা থেকে দুবাই গামী ফ্লাইট বিজি-১৪৭ অপারেশনাল কারণে বিলম্বিত হবে। মূল নির্ধারিত সময় ছিল বিকেল ৪টা (১০:০০ ইউটিসি), যা পরিবর্তিত হয়ে রাত ৮টা (১৪:০০ ইউটিসি) নির্ধারণ করা হয়েছে অর্থাৎ চার ঘণ্টা দেরি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমান বহরে থাকা বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে উড্ডয়ন অনুপযোগি হয়ে আছে। আর সেই কাটাতেই নিয়মিত সিডিউল পুণরায় সাজাতে গিয়ে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, বর্তমানে উড়োজাহাজ সংস্থাটির ১০টি বড় উড়োজাহাজের মধ্যে অন্তত চারটি গ্রাউন্ডেড অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি বোয়িং ৭৮৭ এবং একটি বোয়িং ৭৭৭।
হঠাৎ করে বিমানে কেন এতো যান্ত্রিক ত্রুটি হচ্ছে- জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এ বি এম রওশন কবীর জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশ রেলওয়েতে এই ধরনের সমস্যা ছিলো নিয়মিত ঘটনা। রেল সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলেও এবার বিমানে শুরু হয়েছে এই সংকট।
নিয়মিত সিডিউল বিপর্যয়ের এই ঘটনা শুধু যাত্রীদের ব্যক্তিগত অসুবিধায় সীমাবদ্ধ থাকছে না বরং পুরো এভিয়েশন অপারেশন, আর্থিক প্রবাহ এবং দেশের ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনার ফলে ট্রানজিট যাত্রীদের সংযোগ ফ্লাইটও মিস হয়ে যেতে পারে। যার ফলে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ খরচ হয়।
এছাড়া ফ্লাইট বিলম্বের কারণে গন্তব্য বিমানবন্দরে ল্যান্ডিং স্লট পুনঃনির্ধারণ করতে হয়, যা অনেক সময় ব্যয়বহুল। এই ঘটনায় পাইলট ও কেবিন ক্রুদের কাজের সময়সীমা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় শিফট পরিবর্তন ও অতিরিক্ত ক্রু মোতায়েনের প্রয়োজন পড়ছে। আবার আগমন ও প্রস্থানের সময়সূচি এলোমেলো হওয়ায় মেইনটেন্যান্স টিমের কাজের পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে।
শুধু তাই না; ফ্লাইটের সময়সূচী ৭ ঘন্টার বেশি বিলম্বিত হলে যাত্রীদের খাবার ও হোটেল দিতে হয়।
ফ্লাইট বিলম্বের এই ঘটনায় ঠিক কি পরিমান খরচ বাড়লো এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ বি এম রওশন কবীর জানান, বিষয়টি এখনো সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা হয়নি।
আরো পড়তে পারেন
https://banglaaffairs.bd/বিমানে-আলোচিত-পদোন্নতি-হ/






































