রেকর্ড করা পাখির ডাক বাজিয়ে চলছে অতিথি পাখি শিকার
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 91
শীতের শুরুতেই খুলনার দাকোপ উপজেলার খাল–বিল–ঝিলে ভিড় জমাতে শুরু করেছে শীতের অতিথি পাখি। কিন্তু সেই সময়টিকেই সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে কিছু অসাধু শিকারি। মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা পাখির ডাক বাজানো, নানা ধরনের ফাঁদ পাতা, রাতের আঁধারে আলো ফেলা—এমন বহু পদ্ধতি ব্যবহার করে নির্বিচারে ধরা হচ্ছে অতিথি পাখি। পরে এসব পাখি পূর্ব অর্ডার অনুযায়ী সহজেই বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
সচেতন ব্যক্তিদের অভিযোগ, বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ তেমনভাবে দেখা যায় না।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও নভেম্বর থেকে বিভিন্ন জলাশয়ে পাখির আগমন শুরু হয়েছে। পাখির ওড়াউড়ি আর ডাক পুরো এলাকাকে প্রাণবন্ত করে তুলছে। কিন্তু সাথে সাথে বেড়ে গেছে শিকারিদের তৎপরতা।
শিকারিরা রাতে মাঠ বা জলাশয়ের পাশে বসে মোবাইলে পাখির নকল ডাক বাজায়। এতে পাখির দল নিচে নেমে এলে তারা জাল, নাইলনের সুতা, কোচ মারা, বশি পাতা কিংবা কেঁচো দিয়ে লোভ দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে। পরে প্রতিটি পাখি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, কিছু ব্যক্তি আবার এই শিকারিদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়েরও চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সাইবেরিয়া, হিমালয় এলাকা এবং অন্যান্য শীতপ্রধান দেশ থেকে বাঁচতে প্রতি বছর এসব অতিথি পাখি বাংলাদেশে আসে। দাকোপে নিয়মিত দেখা যায় বালি হাঁস, জলপিপি, কাস্তে চাড়া, পাতাড়ি হাঁস, হুরহুর, সরালী, কাদা খোচাসহ অসংখ্য প্রজাতির পাখি।
১৯৮০-এর দশকে দেশে প্রায় সাড়ে ৩০০ প্রজাতির অতিথি পাখি দেখা গেলেও এখন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬০–৭০ প্রজাতিতে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিকারি জানান, রাতের বেলা ধানের মাঠে বসেই তারা মোবাইলে পাখির ডাক বাজিয়ে পাখি নামান। এরপর সহজেই ফাঁদে আটকে পড়ে পাখিগুলো, যা আগ্রহী ক্রেতাদের কাছে দ্রুত বিক্রি করা হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ (খুলনা অঞ্চল) বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, অতিথি পাখি নিধন রোধে নিয়মিত অভিযান চলছে। কোথাও শিকার বা বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
































