ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রিকশাচালক আজিজুরকে আটকের ঘটনায় ব্যাখ্যা তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 190

রিকশাচালক আজিজুরকে আটকের ঘটনায় ব্যাখ্যা তলব

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ায় আটক রিকশাচালক মো. আজিজুর রহমানকে কিসের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে- তা জানতে চেয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

রোববার (১৭ আগস্ট) সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ থেকে আটক রিকশাচালক মো. আজিজুর রহমানকে কীসের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

এছাড়াও দায়েরকৃত মামলায় আজিজুর রহমানের সম্পৃক্ততা তদন্ত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সম্প্রতি সংশোধিত সিআরপিসির ১৭৩ (এ) ধারা মোতাবেক অতিসত্বর প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে গেলে স্থানীয়দের হাতে গণপিটুনির শিকার হন আজিজুর রহমান। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন শনিবার (১৬ আগস্ট) তাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন এক হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আদালত সেদিন তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মামলার নথি অনুসারে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ও বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হন।

ঘটনার পর আহতদের একজন আরিফুল ইসলাম দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে এ বছরের ২ এপ্রিল ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়।

এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে অন্তবর্তী সরকার। সেই সমালোচনায় মুখে আজ এই ব্যাখ্যা তলব করা হলো।

এর আগে আজ রোববার (১৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলামের আদালত আজিজুর রহমানের শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকায় মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

শুনানিতে আসামিপক্ষে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। তবে উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত তাকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রিকশাচালক আজিজুরকে আটকের ঘটনায় ব্যাখ্যা তলব

সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ায় আটক রিকশাচালক মো. আজিজুর রহমানকে কিসের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে- তা জানতে চেয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

রোববার (১৭ আগস্ট) সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ থেকে আটক রিকশাচালক মো. আজিজুর রহমানকে কীসের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

এছাড়াও দায়েরকৃত মামলায় আজিজুর রহমানের সম্পৃক্ততা তদন্ত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সম্প্রতি সংশোধিত সিআরপিসির ১৭৩ (এ) ধারা মোতাবেক অতিসত্বর প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে গেলে স্থানীয়দের হাতে গণপিটুনির শিকার হন আজিজুর রহমান। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন শনিবার (১৬ আগস্ট) তাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন এক হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আদালত সেদিন তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মামলার নথি অনুসারে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ও বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হন।

ঘটনার পর আহতদের একজন আরিফুল ইসলাম দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে এ বছরের ২ এপ্রিল ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়।

এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে অন্তবর্তী সরকার। সেই সমালোচনায় মুখে আজ এই ব্যাখ্যা তলব করা হলো।

এর আগে আজ রোববার (১৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলামের আদালত আজিজুর রহমানের শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকায় মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

শুনানিতে আসামিপক্ষে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। তবে উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত তাকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন।