প্রথম দেশ হিসেবে
তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল রাশিয়া
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
- / 176
রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা বিশ্বে প্রথম কোনো দেশের এমন সিদ্ধান্ত। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) কাবুলে তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে বৈঠকে রুশ রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি ঝিরনোভ তালেবান সরকারের নতুন রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন, যা স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
মুত্তাকি রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু করল। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই স্বীকৃতি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক হবে। জ্বালানি, পরিবহন, কৃষি এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ ও মাদক পাচার রোধে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে এলেও এতদিন পর্যন্ত কোনো দেশ তাদের সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। রাশিয়াই এই প্রথম এমন পদক্ষেপ নিল।
উল্লেখযোগ্য যে, চলতি বছরের এপ্রিলে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট তালেবানকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ তালিকা থেকে বাদ দেয়। এমনকি তালেবানের সঙ্গে রাশিয়ার সংলাপ ও বাণিজ্য সম্পর্ক গত কয়েক বছর ধরেই অব্যাহত ছিল। ২০২২ সালে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ সংক্রান্ত একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়। কাবুলে দূতাবাস চালু রাখা দেশের মধ্যেও রাশিয়া ছিল অগ্রগণ্য।
অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশগুলো তালেবান সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন, নারী শিক্ষা ও স্বাধীনতা হরণ এবং কট্টর শরিয়া আইন প্রয়োগ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে যাচ্ছে। জাতিসংঘও ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার জব্দ করে, যা এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি।
যদিও চীন, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও উজবেকিস্তান কাবুলে দূতাবাস চালু রেখেছে, তবে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। ভারতও সীমিত কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখলেও তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।



































