রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 86
রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তীব্র সংকটে পড়েছে ইউক্রেন। শনিবার রাতের এই হামলার পর রবিবার দেশজুড়ে তাপ ও আলো পুনরুদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির তথ্যমতে, রাশিয়া শনিবার রাতে ইউক্রেনের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় শতাধিক ড্রোন নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকটি শহরে বিদ্যুৎ, গরম ও পানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থা সেন্টরএনার্গো জানায়, হামলার পর উৎপাদন কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ইউক্রেনারগো জানিয়েছে, রবিবার দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে দিনে আট থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকবে না। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, দ্রুত মেরামত ও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী স্বিতলানা গ্রিনচুক জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও কিয়েভ, খারকিভ, দোনেৎস্ক, পোলতাভা, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, চেরনিগিভ ও সুমি অঞ্চলে অনিয়মিত বিভ্রাট চলতে পারে। তিনি বলেন, “রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, রাশিয়ান ড্রোন পশ্চিম ইউক্রেনের দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ সাবস্টেশনকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তিনি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থাকে (IAEA) বিষয়টি নিয়ে জরুরি প্রতিক্রিয়া জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন। সিবিহা বলেন, “রাশিয়া ইউরোপের পারমাণবিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।”
তিনি আরও অনুরোধ করেছেন, রাশিয়ার অন্যতম তেল ক্রেতা চীন ও ভারত যেন মস্কোর ওপর হামলা বন্ধের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব হামলা ইউক্রেনকে আসন্ন শীত মৌসুমে বড় ধরনের তাপ সংকটের ঝুঁকিতে ফেলেছে। রাশিয়ার চলমান আক্রমণে ইতোমধ্যে ইউক্রেনের বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গ্যাস কোম্পানি নাফটোগাজ জানিয়েছে, অক্টোবরের পর থেকে এটি গ্যাস স্থাপনাগুলোর ওপর নবম বড় আক্রমণ। কিয়েভ স্কুল অব ইকোনমিক্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলায় ইউক্রেনের প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
ইউক্রেনের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ওলেক্সান্ডার খারচেঙ্কো সতর্ক করেছেন, “যদি কিয়েভের দুটি প্রধান বিদ্যুৎ ও তাপ কেন্দ্র তিন দিনের বেশি সময় বন্ধ থাকে এবং তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রির নিচে নামে, তবে রাজধানী বড় প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।”
অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। দেশটি সম্প্রতি রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল ডিপো ও শোধনাগারে আঘাত হেনে মস্কোর জ্বালানি রপ্তানি সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা করছে।































