ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার প্রতি সম্মানই শান্তির পথ—পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 108

পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে আর কোনো নতুন সামরিক অভিযান চালানো হবে না—যদি দেশটির স্বার্থ ও মর্যাদাকে যথাযথভাবে সম্মান করা হয়। ইউরোপে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা রয়েছে—এমন অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন।

রাশিয়ার টেলিভিশনে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টাব্যাপী সরাসরি সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে বিবিসির সাংবাদিক স্টিভ রোজেনবার্গের প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, “আপনারা যদি আমাদের সম্মান করেন এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেন, তাহলে নতুন কোনো সামরিক অভিযানের প্রয়োজন হবে না।”

ন্যাটোর পূর্বদিকে সম্প্রসারণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পুতিন বলেন, অতীতে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তার দাবি, ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন নেতা মিখাইল গর্বাচেভকে ন্যাটো সম্প্রসারণ না করার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা মানা হয়নি। যদিও পরবর্তী সময়ে গর্বাচেভ এই দাবি অস্বীকার করেছিলেন।

‘ডাইরেক্ট লাইন’ নামের ওই অনুষ্ঠানে পুতিন একটি বিশাল মানচিত্রের সামনে বসে প্রশ্নের উত্তর দেন। মানচিত্রে ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো দেখানো ছিল, যার মধ্যে ২০১৪ সালে যুক্ত হওয়া ক্রিমিয়াও অন্তর্ভুক্ত।

শান্তি প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, তিনি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী, তবে কোনো আপসের ইঙ্গিত দেননি। তিনি আবারও আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীকে রাশিয়া-অধিভুক্ত চারটি অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে এবং কিয়েভকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা পরিত্যাগ করতে হবে। রাশিয়ার অন্যতম প্রধান দাবি হলো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ডনবাসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।

তবে পুতিন যখন শান্তির কথা বলছিলেন, তখনই ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করে, তারা ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

এদিকে পুতিন জানান, ইউক্রেনে নতুন নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে তিনি সম্মত এবং ভোটের সময় হামলা বন্ধ রাখতেও রাজি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাশিয়ার প্রতি সম্মানই শান্তির পথ—পুতিন

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে আর কোনো নতুন সামরিক অভিযান চালানো হবে না—যদি দেশটির স্বার্থ ও মর্যাদাকে যথাযথভাবে সম্মান করা হয়। ইউরোপে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা রয়েছে—এমন অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন।

রাশিয়ার টেলিভিশনে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টাব্যাপী সরাসরি সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে বিবিসির সাংবাদিক স্টিভ রোজেনবার্গের প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, “আপনারা যদি আমাদের সম্মান করেন এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেন, তাহলে নতুন কোনো সামরিক অভিযানের প্রয়োজন হবে না।”

ন্যাটোর পূর্বদিকে সম্প্রসারণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পুতিন বলেন, অতীতে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তার দাবি, ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন নেতা মিখাইল গর্বাচেভকে ন্যাটো সম্প্রসারণ না করার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা মানা হয়নি। যদিও পরবর্তী সময়ে গর্বাচেভ এই দাবি অস্বীকার করেছিলেন।

‘ডাইরেক্ট লাইন’ নামের ওই অনুষ্ঠানে পুতিন একটি বিশাল মানচিত্রের সামনে বসে প্রশ্নের উত্তর দেন। মানচিত্রে ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো দেখানো ছিল, যার মধ্যে ২০১৪ সালে যুক্ত হওয়া ক্রিমিয়াও অন্তর্ভুক্ত।

শান্তি প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, তিনি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী, তবে কোনো আপসের ইঙ্গিত দেননি। তিনি আবারও আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীকে রাশিয়া-অধিভুক্ত চারটি অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে এবং কিয়েভকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা পরিত্যাগ করতে হবে। রাশিয়ার অন্যতম প্রধান দাবি হলো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ডনবাসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।

তবে পুতিন যখন শান্তির কথা বলছিলেন, তখনই ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করে, তারা ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

এদিকে পুতিন জানান, ইউক্রেনে নতুন নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে তিনি সম্মত এবং ভোটের সময় হামলা বন্ধ রাখতেও রাজি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।