ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রায়পুরায় মা–শিশু কেন্দ্র অধিকাংশ দিন বন্ধ

শফিকুল ইসলাম, রায়পুরা (নরসিংদী)
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / 214

রায়পুরায় মা–শিশু কেন্দ্র অধিকাংশ দিন বন্ধ

নরসিংদীর জেলার রায়পুরায় মরজাল ইউনিয়নের ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই বন্ধ থাকে এবং এলাকাবাসী চরমভাবে ক্ষিপ্ত চিকিৎসা সেবায় বঞ্চিত হচ্ছেন।

মরজাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পুরাতন ভবনটি ভেঙ্গে একই স্থানে মরজাল ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। ফলে মরজাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কোনো ভবন না থাকায় কেন্দ্রটির সকল স্টাফদের মরজাল ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে অফিস করার নির্দেশ রয়েছে। সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এলাকাবাসী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উক্ত কেন্দ্রটিতে কর্মরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মতিন মিয়া, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ডলি রাণী দাস, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিন এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুনের প্রতি এলাকাবাসীর নানা অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত ৯ আগস্ট কেন্দ্রটির সকল অফিস স্টাফসহ কেউ উপস্থিত ছিলেন না। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মতিন ৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে অনুপস্থিত। তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি বলেন, “আমার দাঁতের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছি। উপজেলা মেডিকেল অফিসারের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছি।”

উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব জানান, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আমার সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করেননি। তার ছুটির ব্যাপারে আমি জানি না, এটি তার মনগড়া কথা। বিষয়টি আমি দ্রুত দেখছি।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মতিন মিয়া প্রতি সপ্তাহে দুই দিন (সোমবার ও মঙ্গলবার) অফিসে আসেন। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর পাওয়া যায়। প্রতিদিনের কার্যক্রমে, তিনি মরজাল বাসস্ট্যান্ডের খান ফার্মেসিতে রোগী দেখেন এবং নামমাত্র অফিসে উপস্থিত থাকেন।

বৃদ্ধা ফুলনেছা বেগম বলেন, “মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতাল থেকে আমার মেয়ে, ছেলের বউসহ কেউ আমরা কোনোদিন চিকিৎসা সেবা পাইনি। আগে যতদিন গর্ভবতী রোগী নিয়ে এসেছি, মতিন ডাক্তারকে পাইনি। যদি কোনোদিন পাই, ওষুধ চাইলে তার কাছ থেকে কোনো ওষুধ পাইনি। সে সবসময় চেনা মুখ ও সুন্দরী মহিলাদের দেখে ওষুধ দেয়।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মতিন মিয়ার সঙ্গে কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী এক স্থানীয় নারীর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি আগেও প্রকাশিত হলে ঝগড়া ও বিষপান পর্যন্ত ঘটেছিল।

উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আব্দুল মতিন মিয়া জানান, “পূর্বে অফিসিয়ালভাবে সব বিষয় সমাধান করা হয়েছে। এখন আমি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত আছি এবং চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।”

অপরদিকে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিন ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রমিজ উদ্দিন অফিসে ও অফিসের বাইরে আর্জিনা খাতুনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন এবং ডলি রাণী দাসও তাকে সমর্থন করছেন।

উক্ত বিষয়ে রমিজ উদ্দিন ও আর্জিনা খাতুন স্বীকার করেছেন যে, “মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথাবার্তা ও আচরণ করার কারণে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা নিজেদের সংশোধন করি এবং বিষয়টি অফিসিয়ালভাবে সমাধান করা হয়েছে।”

সরেজমিনে দেখা যায়, রমিজ উদ্দিন ডক্টর রুমের লেখা প্লেট খুলে নিজ নামে নেইম-প্লেট লাগিয়ে রুমটি দখল করেছেন। এছাড়া কেন্দ্রটি চালু না থাকায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুনও কোনো কাজ না করে আড্ডায় মগ্ন রয়েছেন।

উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, “আমি এই বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করে চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি। গত প্রায় ৭ মাস ধরে সরকারি ঔষধ সরবরাহ নেই। রমিজ উদ্দিনের দখলকৃত রুমের বিষয়ে আমি জানি না। তবে সকল অফিস স্টাফদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।”

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার সাইদুর রহমান জানান, রমিজ উদ্দিন ও আর্জিনা খাতুনের অনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ে উপজেলা অফিসে কোনো সমাধান হয়নি। ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিত করতে সকল অফিস স্টাফদের নিয়মিত উপস্থিতি রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রায়পুরায় মা–শিশু কেন্দ্র অধিকাংশ দিন বন্ধ

সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

নরসিংদীর জেলার রায়পুরায় মরজাল ইউনিয়নের ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই বন্ধ থাকে এবং এলাকাবাসী চরমভাবে ক্ষিপ্ত চিকিৎসা সেবায় বঞ্চিত হচ্ছেন।

মরজাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পুরাতন ভবনটি ভেঙ্গে একই স্থানে মরজাল ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। ফলে মরজাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কোনো ভবন না থাকায় কেন্দ্রটির সকল স্টাফদের মরজাল ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে অফিস করার নির্দেশ রয়েছে। সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এলাকাবাসী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উক্ত কেন্দ্রটিতে কর্মরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মতিন মিয়া, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ডলি রাণী দাস, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিন এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুনের প্রতি এলাকাবাসীর নানা অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত ৯ আগস্ট কেন্দ্রটির সকল অফিস স্টাফসহ কেউ উপস্থিত ছিলেন না। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মতিন ৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে অনুপস্থিত। তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি বলেন, “আমার দাঁতের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছি। উপজেলা মেডিকেল অফিসারের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছি।”

উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব জানান, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আমার সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করেননি। তার ছুটির ব্যাপারে আমি জানি না, এটি তার মনগড়া কথা। বিষয়টি আমি দ্রুত দেখছি।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মতিন মিয়া প্রতি সপ্তাহে দুই দিন (সোমবার ও মঙ্গলবার) অফিসে আসেন। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর পাওয়া যায়। প্রতিদিনের কার্যক্রমে, তিনি মরজাল বাসস্ট্যান্ডের খান ফার্মেসিতে রোগী দেখেন এবং নামমাত্র অফিসে উপস্থিত থাকেন।

বৃদ্ধা ফুলনেছা বেগম বলেন, “মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতাল থেকে আমার মেয়ে, ছেলের বউসহ কেউ আমরা কোনোদিন চিকিৎসা সেবা পাইনি। আগে যতদিন গর্ভবতী রোগী নিয়ে এসেছি, মতিন ডাক্তারকে পাইনি। যদি কোনোদিন পাই, ওষুধ চাইলে তার কাছ থেকে কোনো ওষুধ পাইনি। সে সবসময় চেনা মুখ ও সুন্দরী মহিলাদের দেখে ওষুধ দেয়।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মতিন মিয়ার সঙ্গে কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী এক স্থানীয় নারীর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি আগেও প্রকাশিত হলে ঝগড়া ও বিষপান পর্যন্ত ঘটেছিল।

উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আব্দুল মতিন মিয়া জানান, “পূর্বে অফিসিয়ালভাবে সব বিষয় সমাধান করা হয়েছে। এখন আমি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত আছি এবং চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।”

অপরদিকে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিন ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রমিজ উদ্দিন অফিসে ও অফিসের বাইরে আর্জিনা খাতুনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন এবং ডলি রাণী দাসও তাকে সমর্থন করছেন।

উক্ত বিষয়ে রমিজ উদ্দিন ও আর্জিনা খাতুন স্বীকার করেছেন যে, “মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথাবার্তা ও আচরণ করার কারণে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা নিজেদের সংশোধন করি এবং বিষয়টি অফিসিয়ালভাবে সমাধান করা হয়েছে।”

সরেজমিনে দেখা যায়, রমিজ উদ্দিন ডক্টর রুমের লেখা প্লেট খুলে নিজ নামে নেইম-প্লেট লাগিয়ে রুমটি দখল করেছেন। এছাড়া কেন্দ্রটি চালু না থাকায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুনও কোনো কাজ না করে আড্ডায় মগ্ন রয়েছেন।

উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, “আমি এই বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করে চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি। গত প্রায় ৭ মাস ধরে সরকারি ঔষধ সরবরাহ নেই। রমিজ উদ্দিনের দখলকৃত রুমের বিষয়ে আমি জানি না। তবে সকল অফিস স্টাফদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।”

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার সাইদুর রহমান জানান, রমিজ উদ্দিন ও আর্জিনা খাতুনের অনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ে উপজেলা অফিসে কোনো সমাধান হয়নি। ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিত করতে সকল অফিস স্টাফদের নিয়মিত উপস্থিতি রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।