রায়পুরায় খাদ্যবান্ধব চাল বিতরণে আত্মসাতের অভিযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
- / 176
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির খাদ্যশস্য বিক্রয়কেন্দ্র রহমান ট্রেডার্স হাঁটুভাঙা বাজারের ডিলার নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ৩৯২ জন কার্ডধারীর মাঝে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে একজন নিয়মিত গ্রাহক আব্দুল আওয়াল মিয়ার নির্ধারিত চাল অন্য একজনের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল আওয়াল মিয়া বলেন, “আমি প্রতিবছর ৫ মাস ধরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নিয়মিত সংগ্রহ করি। এবার চাল নিতে আসলে ডিলার আমাকে জানায়, আমার নির্ধারিত চাল নাকি অন্য কেউ নিয়ে গেছে। অথচ আমার কার্ড থাকা সত্ত্বেও আমাকে চাল দেওয়া হয়নি। এখন আমার চাল অন্য লোক দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাই আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।”
তিনি আরও জানান, “আমি গরিব ও অসুস্থ মানুষ। কাজ করতে পারি না। এই চাল না পেলে আমি কীভাবে দিন কাটাবো?”
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল আওয়াল মিয়ার মতো আরও অনেক কার্ডধারীর চাল ডিলার নুরুজ্জামান অন্যের মাধ্যমে আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ডিলার নুরুজ্জামান বলেন, “যদি এই গ্রাহক চাল না নিয়ে থাকেন, তবে তাকে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”
মির্জানগর ইউপি চেয়ারম্যান রিপন সরকার বলেন, “খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাৎ করা অন্যায়। গরিবের চাল আত্মসাৎ করা কোনোভাবেই ঠিক নয়।”
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শিখা আক্তার জানান, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একটি লিখিত অভিযোগে আমাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। বিষয়টি দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা হবে এবং প্রয়োজনে ডিলারশিপ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য পরিদর্শককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
খাদ্য পরিদর্শক রকিব জানান, “অভিযোগ শুনে সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী গ্রাহককে পাওয়া যায়নি। তবে একটি লিখিত অভিযোগ হাতে পেয়েছি।”
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, “খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাতের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই উপজেলায় কোনো ডিলার যদি অনিয়মে জড়িত থাকে, তবে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।”


































