ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাবিতে রেজিস্ট্রার ও রাকসু জিএস আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি (রাজশাহী)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:০২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • / 62

রাবিতে রেজিস্ট্রার ও রাকসু জিএস আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা ভাইরাল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম ও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এটি নিয়ে ক্যাম্পাসে এখন আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সময়কাল ছিল গত রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুর, প্রশাসন ভবনের রেজিস্ট্রারের কক্ষে। রাতের মধ্যেই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুরো ক্যাম্পাস সরগরম হয়ে ওঠে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, সম্প্রতি চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এনামুল হকের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিল। রোববার দুপুর ১২টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব ওই শিক্ষকের অব্যাহতির চিঠিতে সই করলেও, চিঠিটি রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে বিভাগে পাঠানোতে বিলম্ব হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

দ্বিতীয়ত, জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার অভিযোগ পান যে, রেজিস্ট্রার তাঁর কক্ষে ‘মহানগর বিএনপির’ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সভা করছেন। এই দুটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়েই আম্মার রেজিস্ট্রারের কক্ষে প্রবেশ করেন।

রেজিস্ট্রার ও জিএস-এর মধ্যে সরাসরি বাগ্‌বিতণ্ডায় শোনা যায়:

জিএস আম্মার: আমি স্যার ভেতরে আসব না?
রেজিস্ট্রার: তোমাকে আমি বাইরে ১০ মিনিট ওয়েট (অপেক্ষা) করতে বলেছি।
জিএস আম্মার: আপনি স্যার চিঠি (চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতিকে অপসারণের চিঠি) আটকে রাখছেন।
রেজিস্ট্রার (ক্ষুব্ধ হয়ে): এই বেয়াদব ছেলে, কীসের চিঠি আটকে রাখছি আমি?
জিএস আম্মার: বেয়াদব তো আমি। ডেফিনেটলি বেয়াদব।
রেজিস্ট্রার: আমার সঙ্গে বেয়াদবি কেন? তুমি কে ওই ডিপার্টমেন্টের?
জিএস আম্মার: আমি কে মানে? আমি রাকসুর নির্বাচিত জিএস।

সালাহউদ্দিন আম্মার সাংবাদিকদের জানান, রেজিস্ট্রার প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং সেদিনও তাকে বারবার ‘গেট আউট’ বলে চিৎকার করেন। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং দায়িত্বশীল জায়গা থেকে ঘটনাটি যাচাই করতে গিয়েছিলেন।

অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম অভিযোগ করেছেন, সালাহউদ্দিন আম্মার অনুমতি ছাড়া তাঁর দপ্তরে ঢুকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগে সভাপতির নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছিল, কোনো ফাইল আটকে রাখা হয়নি। তিনি শিক্ষার্থীসংক্রান্ত বিষয় হলেও প্রশাসনিক নিয়োগে রাকসু নেতাদের হস্তক্ষেপ অনুচিত বলেও মন্তব্য করেছেন।

রেজিস্টারের কক্ষে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করার অভিযোগ নিয়ে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। এনসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার আহ্বায়ক মোবাশ্বের রাজ বলেন, বাগ্‌বিতণ্ডার সময় সেখানে বিএনপির কেউ ছিলেন না; কেবল এনসিপি নেতৃত্ব সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। তিনি অনুমান করেন, রেজিস্ট্রারের পিএস ভুলবশত এনসিপি নেতাদের ‘বিএনপির কর্মী’ ভেবে ভুল তথ্য দিয়েছেন, যা থেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ (রাহী) এই ঘটনায় বিএনপির নাম জড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘রেজিস্ট্রার অফিসে আম্মার ও শিক্ষক পরস্পরকে ধমকাচ্ছেন, অথচ বিএনপির নাম টেনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে বিএনপির কেউ ছিল না।’

এদিকে, রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) প্রশাসনের কিছু অংশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে তাদের আচরণ পরিবর্তন হওয়া সমীচীন ছিল; কিন্তু এখনো প্রশাসনের কারও কারও আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা রাকসুর প্রতিনিধি নির্বাচিত করে তাদের বাড়াভাতে ছাই দিয়েছেন।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাবিতে রেজিস্ট্রার ও রাকসু জিএস আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা ভাইরাল

সর্বশেষ আপডেট ০৪:০২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম ও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এটি নিয়ে ক্যাম্পাসে এখন আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সময়কাল ছিল গত রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুর, প্রশাসন ভবনের রেজিস্ট্রারের কক্ষে। রাতের মধ্যেই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুরো ক্যাম্পাস সরগরম হয়ে ওঠে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, সম্প্রতি চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এনামুল হকের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিল। রোববার দুপুর ১২টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব ওই শিক্ষকের অব্যাহতির চিঠিতে সই করলেও, চিঠিটি রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে বিভাগে পাঠানোতে বিলম্ব হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

দ্বিতীয়ত, জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার অভিযোগ পান যে, রেজিস্ট্রার তাঁর কক্ষে ‘মহানগর বিএনপির’ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সভা করছেন। এই দুটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়েই আম্মার রেজিস্ট্রারের কক্ষে প্রবেশ করেন।

রেজিস্ট্রার ও জিএস-এর মধ্যে সরাসরি বাগ্‌বিতণ্ডায় শোনা যায়:

জিএস আম্মার: আমি স্যার ভেতরে আসব না?
রেজিস্ট্রার: তোমাকে আমি বাইরে ১০ মিনিট ওয়েট (অপেক্ষা) করতে বলেছি।
জিএস আম্মার: আপনি স্যার চিঠি (চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতিকে অপসারণের চিঠি) আটকে রাখছেন।
রেজিস্ট্রার (ক্ষুব্ধ হয়ে): এই বেয়াদব ছেলে, কীসের চিঠি আটকে রাখছি আমি?
জিএস আম্মার: বেয়াদব তো আমি। ডেফিনেটলি বেয়াদব।
রেজিস্ট্রার: আমার সঙ্গে বেয়াদবি কেন? তুমি কে ওই ডিপার্টমেন্টের?
জিএস আম্মার: আমি কে মানে? আমি রাকসুর নির্বাচিত জিএস।

সালাহউদ্দিন আম্মার সাংবাদিকদের জানান, রেজিস্ট্রার প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং সেদিনও তাকে বারবার ‘গেট আউট’ বলে চিৎকার করেন। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং দায়িত্বশীল জায়গা থেকে ঘটনাটি যাচাই করতে গিয়েছিলেন।

অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম অভিযোগ করেছেন, সালাহউদ্দিন আম্মার অনুমতি ছাড়া তাঁর দপ্তরে ঢুকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগে সভাপতির নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছিল, কোনো ফাইল আটকে রাখা হয়নি। তিনি শিক্ষার্থীসংক্রান্ত বিষয় হলেও প্রশাসনিক নিয়োগে রাকসু নেতাদের হস্তক্ষেপ অনুচিত বলেও মন্তব্য করেছেন।

রেজিস্টারের কক্ষে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করার অভিযোগ নিয়ে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। এনসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার আহ্বায়ক মোবাশ্বের রাজ বলেন, বাগ্‌বিতণ্ডার সময় সেখানে বিএনপির কেউ ছিলেন না; কেবল এনসিপি নেতৃত্ব সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। তিনি অনুমান করেন, রেজিস্ট্রারের পিএস ভুলবশত এনসিপি নেতাদের ‘বিএনপির কর্মী’ ভেবে ভুল তথ্য দিয়েছেন, যা থেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ (রাহী) এই ঘটনায় বিএনপির নাম জড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘রেজিস্ট্রার অফিসে আম্মার ও শিক্ষক পরস্পরকে ধমকাচ্ছেন, অথচ বিএনপির নাম টেনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে বিএনপির কেউ ছিল না।’

এদিকে, রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) প্রশাসনের কিছু অংশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে তাদের আচরণ পরিবর্তন হওয়া সমীচীন ছিল; কিন্তু এখনো প্রশাসনের কারও কারও আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা রাকসুর প্রতিনিধি নির্বাচিত করে তাদের বাড়াভাতে ছাই দিয়েছেন।’