ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাতের তাপমাত্রা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / 91

রাতের তাপমাত্রা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন

রাতের আকাশ মানেই তারার ঝলক, রাত মানেই পৃথিবীর বিশ্রাম। পরিষ্কার রাতে পৃথিবী নিঃশব্দে দিনের বেলায় গ্রহণ করা সূর্যের তাপ মহাকাশে নির্গত করে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীরা পৃথিবীর স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া থেকে স্থিতিশীল শক্তি প্রবাহ তৈরি করার পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছেন।

তাদের তৈরি একটি ছোট আউটডোর ইঞ্জিন রাতের আকাশকে একটি ঠান্ডা জলাধার হিসেবে ব্যবহার করে। যন্ত্রটি সারারাত ধরে উষ্ণ ও শীতল অংশের মধ্যে তাপমাত্রার একটি স্থির পার্থক্য বজায় রাখতে পারে। সেখান থেকে একটি ছোট পাখা চালানোর মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব।

এই যুগান্তকারী কাজের নেতৃত্ব দেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসের বিজ্ঞানী জেরেমি ম্যান্ডে। এটি সায়েন্স অ্যাডভান্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সাধারণভাবে, রাতে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একটি স্বচ্ছ ব্যান্ড বরাবর তাপ মহাকাশে বেরিয়ে যায়। এই ব্যান্ডটিকে প্রায়শই ‘বায়ুমণ্ডলীয় জানালা’ বলা হয়। এখানে বাতাস সবচেয়ে স্বচ্ছ থাকে। বিজ্ঞানীদের তৈরি যন্ত্রের নিচের প্লেটটি মাটির উষ্ণতাকে অনুসরণ করে।

যন্ত্রটিতে কয়েকটি প্লেট আছে। উষ্ণ ও শীতল প্লেটের মধ্যে প্রায় ১৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা –৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার স্থির পার্থক্য দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে, ইঞ্জিনটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় একবার ঘুরে। উন্নত উপাদান ব্যবহার করলে প্রতি বর্গমিটারে কয়েক ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, যন্ত্রটি সরাসরি একটি পাখা ঘোরাতে সক্ষম। এছাড়া একটি ছোট মোটর যুক্ত করে পরিমিত বৈদ্যুতিক প্রবাহও উৎপাদন করা যায়।

বিজ্ঞানী ম্যান্ডে জানান, এই ইঞ্জিন তখনই কার্যকর হয়, যখন শুধু তাপমাত্রার পার্থক্য থাকে। যদি এটি কোনো টেবিলের ওপর রাখা হয়, তবে এটি নিজে থেকে কোনো শক্তি উৎপাদন করবে না।

প্রযুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্টার্লিং ইঞ্জিন। এটি বাহ্যিক তাপ ইঞ্জিন, যা আবদ্ধ গ্যাস ব্যবহার করে তাপমাত্রার পার্থক্যকে গতিতে রূপান্তরিত করে। দুটি পিস্টন ও একটি তাপ সঞ্চয়কারী রিজেনারেটর ব্যবহার করে গ্যাস আদান-প্রদান হয়। ফলে গ্যাস প্রসারিত ও সংকুচিত হয় এবং ফ্লাইহুইল নামের বিশেষ চাকা ঘুরিয়ে শক্তি উৎপাদিত হয়।

ভবিষ্যতে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই প্রযুক্তি গ্রিনহাউস বা ভবনে রাতের বেলা স্থিতিশীল বায়ু চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাতের তাপমাত্রা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

রাতের আকাশ মানেই তারার ঝলক, রাত মানেই পৃথিবীর বিশ্রাম। পরিষ্কার রাতে পৃথিবী নিঃশব্দে দিনের বেলায় গ্রহণ করা সূর্যের তাপ মহাকাশে নির্গত করে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীরা পৃথিবীর স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া থেকে স্থিতিশীল শক্তি প্রবাহ তৈরি করার পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছেন।

তাদের তৈরি একটি ছোট আউটডোর ইঞ্জিন রাতের আকাশকে একটি ঠান্ডা জলাধার হিসেবে ব্যবহার করে। যন্ত্রটি সারারাত ধরে উষ্ণ ও শীতল অংশের মধ্যে তাপমাত্রার একটি স্থির পার্থক্য বজায় রাখতে পারে। সেখান থেকে একটি ছোট পাখা চালানোর মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব।

এই যুগান্তকারী কাজের নেতৃত্ব দেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসের বিজ্ঞানী জেরেমি ম্যান্ডে। এটি সায়েন্স অ্যাডভান্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সাধারণভাবে, রাতে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একটি স্বচ্ছ ব্যান্ড বরাবর তাপ মহাকাশে বেরিয়ে যায়। এই ব্যান্ডটিকে প্রায়শই ‘বায়ুমণ্ডলীয় জানালা’ বলা হয়। এখানে বাতাস সবচেয়ে স্বচ্ছ থাকে। বিজ্ঞানীদের তৈরি যন্ত্রের নিচের প্লেটটি মাটির উষ্ণতাকে অনুসরণ করে।

যন্ত্রটিতে কয়েকটি প্লেট আছে। উষ্ণ ও শীতল প্লেটের মধ্যে প্রায় ১৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা –৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার স্থির পার্থক্য দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে, ইঞ্জিনটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় একবার ঘুরে। উন্নত উপাদান ব্যবহার করলে প্রতি বর্গমিটারে কয়েক ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, যন্ত্রটি সরাসরি একটি পাখা ঘোরাতে সক্ষম। এছাড়া একটি ছোট মোটর যুক্ত করে পরিমিত বৈদ্যুতিক প্রবাহও উৎপাদন করা যায়।

বিজ্ঞানী ম্যান্ডে জানান, এই ইঞ্জিন তখনই কার্যকর হয়, যখন শুধু তাপমাত্রার পার্থক্য থাকে। যদি এটি কোনো টেবিলের ওপর রাখা হয়, তবে এটি নিজে থেকে কোনো শক্তি উৎপাদন করবে না।

প্রযুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্টার্লিং ইঞ্জিন। এটি বাহ্যিক তাপ ইঞ্জিন, যা আবদ্ধ গ্যাস ব্যবহার করে তাপমাত্রার পার্থক্যকে গতিতে রূপান্তরিত করে। দুটি পিস্টন ও একটি তাপ সঞ্চয়কারী রিজেনারেটর ব্যবহার করে গ্যাস আদান-প্রদান হয়। ফলে গ্যাস প্রসারিত ও সংকুচিত হয় এবং ফ্লাইহুইল নামের বিশেষ চাকা ঘুরিয়ে শক্তি উৎপাদিত হয়।

ভবিষ্যতে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই প্রযুক্তি গ্রিনহাউস বা ভবনে রাতের বেলা স্থিতিশীল বায়ু চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।