রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 37
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা। ছবিজুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা। ছবি সংগৃহীত সংগৃহীত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে গণভবনে অবস্থিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে যান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জাদুঘরে সংরক্ষিত জুলাই অভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস, ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্র, গুম ও দমন-পীড়নের দলিল ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা তুলি, গুম থেকে ফিরে আসা ভুক্তভোগী ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খানসহ জাদুঘরের দায়িত্বশীলরা প্রধান উপদেষ্টাসহ আগত অতিথিদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান। এখানে অভ্যুত্থানের আলোকচিত্র, শহিদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সেই সময়কার পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিও উপকরণ এবং শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে ড. ইউনূস একটি ১৫ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
জাদুঘর পরিদর্শন শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই শহিদদের রক্ত তাজা থাকতেই এই জাদুঘর গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে, যা বিশ্বে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, জাতি যদি কখনো দিশেহারা হয়ে পড়ে, এই জাদুঘর থেকেই তারা পথ খুঁজে পাবে। ভবিষ্যতে যেন এমন জাদুঘর আর তৈরি করার প্রয়োজন না হয়, সেটাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একদিন এই জাদুঘরে সময় কাটানোর আহ্বান জানান এবং বলেন, শিক্ষার্থীদের দল বেঁধে এখানে আসা উচিত। আয়নাঘরগুলোতে বসে মানুষ বুঝতে পারবে বন্দিরা কী ধরনের নৃশংসতার মধ্য দিয়ে গেছে এবং এমন দিন আর কখনো ফিরে না আসার বিষয়ে সবাইকে একমত হতে হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, নিরস্ত্র ছাত্র ও সাধারণ মানুষ যে সাহসিকতার সঙ্গে অস্ত্রের মুখে দাঁড়াতে পারে, সেটাই এই জাতির বড় শিক্ষা।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, অল্প সময়ে জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে পৌঁছানো একটি রেকর্ড। অনেক তরুণ আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন বলেই এটি সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, বাকি অংশের কাজও দ্রুত শেষ করে নির্বাচনের আগেই জাদুঘর সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক আলোচনা, শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্প-সাহিত্য চর্চায় এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।































