রাজনীতিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, শঙ্কা বাড়ছে
- সর্বশেষ আপডেট ১১:১৬:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / 102
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে সংঘর্ষ এবং নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনা রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নুরের ওপর হামলার নিন্দা জানানো হচ্ছে এবং নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগেই অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পেছানোর বা বানচাল করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন আসন্ন নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে এটিকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপি ও এর মিত্র রাজনৈতিক দলগুলো রোডম্যাপকে ইতিবাচকভাবে নিলেও জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, জুলাই বিপ্লবের চেতনার আলোকে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন ও আইনি ভিত্তি আগে নিশ্চিত করা উচিত ছিল। অন্যথায় ভবিষ্যতে সংকট তৈরি হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।
একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখনো সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর পদ্ধতি) অনুযায়ী নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে।
রাজধানীতে গত শুক্রবার গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির কর্মীদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন নুরুল হক নুর। এই হামলাকে অনেকেই একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেছেন, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে এবং এ বিষয়ে আইনি দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সংঘর্ষের পর গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনের সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। নুর বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। মশাল মিছিল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্যও আহত হন।
সরকার জানিয়েছে, নুরের ওপর হামলার তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হবে।
এদিকে রাজধানীসহ কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ হয়। একইসঙ্গে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ তৈরি করে। উত্তরা ও অন্যান্য এলাকায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের কুশপুত্তলিকা দাহ করে তাঁর গ্রেপ্তার ও দল নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।
রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় গতকালও উত্তেজনা বিরাজ করে। পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দিনের শুরু থেকেই সেখানে পুলিশের সতর্ক অবস্থান দেখা যায়। বিকেলে গণঅধিকার পরিষদের মিছিল থেকে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়া হলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং পার্টি অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
গণঅধিকার পরিষদ তিন দফা দাবি জানিয়েছে: ১. বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন,
২. স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং ৩. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা।
বিভিন্ন জেলায় বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও জুলাই মঞ্চের মতো দলগুলো নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করেছে।
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এক জরুরি বৈঠক করে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।
সার্বিকভাবে, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। হামলা, সংঘর্ষ, বিক্ষোভ ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আরও ঘনীভূত করছে।


































