ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাঙ্গামাটির লাইল্যাঘোনা গিলে খাচ্ছে কাচালং নদী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটি
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 270

রাঙ্গামাটির লাইল্যাঘোনা গিলে খাচ্ছে কাচালং নদী

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পূর্ব লাইল্যাঘোনা গ্রাম ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। কাচালং নদীর পাড়ঘেঁষা এই গ্রামে প্রায় ৬০টি পরিবার চরম দুর্ভোগে রয়েছে। ইতোমধ্যে ১০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ব লাইল্যাঘোনার বাসিন্দারা একসময় নদীর অনেকটা ভিতরে পর্যন্ত জমির মালিক ছিলেন। সেসব জমি, বসতঘর, এমনকি চলাচলের রাস্তাও এখন নদীগর্ভে। অল্প বৃষ্টিতেই প্লাবিত হয় এলাকা, বাড়তি দুর্ভোগে পড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।

স্থানীয় কৃষক মো. আফসার হোসেন জানান, কাপ্তাই বাঁধের কারণে একবার বাস্তুচ্যুত হয়ে তারা এ এলাকায় বসতি গড়েছিলেন। কিন্তু এখন আবার নদী ভাঙনে দ্বিতীয় দফায় বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্দুল খালেক বলেন, ব্যক্তিগত ও সরকারি ছোটখাটো চেষ্টায় ভাঙন রোধ করা সম্ভব হয়নি। এখন বড় আকারে বাঁধ নির্মাণ ছাড়া বিকল্প নেই।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. হোসেন জানান, এলাকা দুর্যোগপ্রবণ হলেও নেই কোনো আশ্রয়কেন্দ্র বা উঁচু সড়ক। বন্যা হলে পুরো গ্রাম পানির নিচে চলে যায়, কিন্তু নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেই।

বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বলেন, কাচালং নদীর করেঙ্গাতলী থেকে দুরছড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন মারাত্মক রূপ নিয়েছে। নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় পানি প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পাড়ে ভাঙন সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পূর্ব লাইল্যাঘোনাসহ আশপাশের ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের একমাত্র দাবি; দ্রুত বেড়িবাঁধ ও উঁচু সড়ক নির্মাণ। অন্যথায় অচিরেই পুরো গ্রামটি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাঙ্গামাটির লাইল্যাঘোনা গিলে খাচ্ছে কাচালং নদী

সর্বশেষ আপডেট ০২:১০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পূর্ব লাইল্যাঘোনা গ্রাম ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। কাচালং নদীর পাড়ঘেঁষা এই গ্রামে প্রায় ৬০টি পরিবার চরম দুর্ভোগে রয়েছে। ইতোমধ্যে ১০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ব লাইল্যাঘোনার বাসিন্দারা একসময় নদীর অনেকটা ভিতরে পর্যন্ত জমির মালিক ছিলেন। সেসব জমি, বসতঘর, এমনকি চলাচলের রাস্তাও এখন নদীগর্ভে। অল্প বৃষ্টিতেই প্লাবিত হয় এলাকা, বাড়তি দুর্ভোগে পড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।

স্থানীয় কৃষক মো. আফসার হোসেন জানান, কাপ্তাই বাঁধের কারণে একবার বাস্তুচ্যুত হয়ে তারা এ এলাকায় বসতি গড়েছিলেন। কিন্তু এখন আবার নদী ভাঙনে দ্বিতীয় দফায় বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্দুল খালেক বলেন, ব্যক্তিগত ও সরকারি ছোটখাটো চেষ্টায় ভাঙন রোধ করা সম্ভব হয়নি। এখন বড় আকারে বাঁধ নির্মাণ ছাড়া বিকল্প নেই।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. হোসেন জানান, এলাকা দুর্যোগপ্রবণ হলেও নেই কোনো আশ্রয়কেন্দ্র বা উঁচু সড়ক। বন্যা হলে পুরো গ্রাম পানির নিচে চলে যায়, কিন্তু নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেই।

বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ বলেন, কাচালং নদীর করেঙ্গাতলী থেকে দুরছড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন মারাত্মক রূপ নিয়েছে। নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় পানি প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পাড়ে ভাঙন সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পূর্ব লাইল্যাঘোনাসহ আশপাশের ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের একমাত্র দাবি; দ্রুত বেড়িবাঁধ ও উঁচু সড়ক নির্মাণ। অন্যথায় অচিরেই পুরো গ্রামটি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।