রাউজানে আবারও খুন, পাল্টা খুন চলছে
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
- / 157
চট্টগ্রামের রাউজানে এভাবে খুন, পাল্টা খুন চলছে। গত বছরের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাউজান উপজেলায় এখন পর্যন্ত খুন হয়েছেন ১৪ জন। এর মধ্যে সাতজন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী। গুলিবিদ্ধ, জখম ও অন্যান্যভাবে আহত হয়েছেন অনেকে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মোটরসাইকেল করে আসা অস্ত্রধারীদের ছোড়া গুলিতে রাউজানের বিএনপির নেতা আবদুল হাকিম (৫২) নিহতের ১৮ দিনের মাথায় আবারও দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদলকর্মী মো. আলমগীর আলম প্রকাশ ডাকাত আলম (৫০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার দুই সহযোগী আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে পৌরসভার রশিদের পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতু। তিনি বলেন, ‘দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারব।’
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাউজানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। আট মাসে রাজনৈতিক খুনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যুবদলের তিনজন (কমর উদ্দিন, ইব্রাহিম ও মানিক আবদুল্লাহ) এবং আওয়ামী লীগের চারজন (আবদুল মান্নান, মুহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, আবু তাহের ও মুহাম্মদ হাসান)। এর বাইরে একজন ব্যবসায়ীকে (জাহাঙ্গীর আলম) খুন করা হয়েছে। যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
বারবার খুন ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত আট মাসে রাউজান থানা–পুলিশের তিনজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলি করা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছেন গোলাম আকবর খন্দকার। তাঁরাই আমার অনুসারী বিএনপি নেতা-কর্মীদের গুলি করে মারছে।’ তিনি বলেন, ‘মারা যাচ্ছে সব আমার অনুসারী। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’
উল্লেখ্য, রাউজানে গত ৫ আগস্টের পর সহিংসতায় মোট ১৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয় অন্তত শতাধিকবার। ৩০০-এর বেশি মানুষ এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন।
































