রমজানের পণ্য আমদানি: এলসি খোলা নিয়ে নতুন নীতি
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
- / 73
রমজানকে সামনে রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক এলসি (ঋণপত্র) খোলার বিষয়ে নতুন নীতি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, নিত্যপণ্যের আমদানিতে এলসি খোলায় কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপ করা হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত ডলার মজুত রয়েছে, তাই এলসি খোলায় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। তিনি জানান, ব্যাংকগুলো এখন নিজেদের নীতি অনুযায়ী রমজানের পণ্য আমদানির জন্য এলসির মার্জিন নির্ধারণ করতে পারবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে চাল, গম, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি, ছোলা, মটর, মসলা এবং খেজুরসহ নিত্যপণ্য আমদানি সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রমজান সামনে রেখে এসব পণ্যের চাহিদা সাধারণ সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হলেও সামগ্রিক অর্থনীতিতে আরও বড় তিনটি চাপ দেখা দিতে পারে—রমজানের পণ্য আমদানির ঋণচাপ, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আমদানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষার মনোভাব।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে আমদানি বেড়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও বাড়ছে। পাশাপাশি স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন সরকারের নীতির দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন, যা আর্থিক খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। তখন বিনিয়োগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানি-রপ্তানিও বাড়বে, যা অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করবে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী মহলের মত, শুধুমাত্র ডলার সরবরাহ বৃদ্ধি বা সুদের হার হ্রাস করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না। তাদের মতে, অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে কর ব্যবস্থায় সংস্কার এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ জরুরি।
অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের এই সময়কালই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি—রমজানের বাজার স্থিতিশীলতা, নির্বাচনের প্রভাব এবং বিনিয়োগ প্রবাহ মিলিয়ে দেশের আর্থিক দিকনির্দেশনা এই সময়েই স্পষ্ট হবে।




































