রক্তাক্ত গোপালগঞ্জে সেনা অভিযানে থমথমে পরিবেশ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:১১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
- / 264
বুধবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টা থেকে গোপালগঞ্জ শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে, যা আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী, র্যাব এবং বিজিবি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান এখনও চলছে।
বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ জানায়, শহরের পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক থাকলেও পরিবেশ এখনও থমথমে। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে চলছে সমন্বিত অভিযান।
গোপালগঞ্জ সদর সার্কেলের একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে, তবে কারফিউ এখনও বলবৎ রয়েছে। গতকাল রাত থেকেই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, বুধবার রাতের ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, “মুজিববাদি সন্ত্রাসীরা জঙ্গি কায়দায় আমাদের নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে।”
সংগঠনটি হামলার নিন্দা জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। আহতদের অনেকেই এখনও চিকিৎসাধীন।
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, “পুলিশ কোনো প্রাণঘাতী (‘লিথ্যাল’) অস্ত্র ব্যবহার করছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যথাসম্ভব ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া হচ্ছে।”
ঘটনার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “এনসিপি’র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা ঘটেছে, তার বিচার হবে। কেউ দায় এড়াতে পারবে না এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে এ রিপোর্ট লেখার সময় ১০ টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষ বা মিছিলের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
































